স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ – কবির আহমদ

0
248
Kabir-Ahmed

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ
কবির আহমদ


আগামী ২৬শে মার্চ বাংলাদেশর স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হবে । জাতির জন্য অনেক গর্বের একটি দিন । যে শিশুটি পঞ্চাশ বছর আগে মায়ের গর্ভে ছিল , হাঁটি হাঁটি পা পা করে সে এখন অনেক পরিণত ।চলার পথটা মসৃণ ছিল না , অনেক বাঁধা , উপেক্ষা এবং হোঁচট খেয়ে খেয়ে আজ বিশ্বের বুকে নিজেকে নতুন রূপে পরিচিতি লাভ করাতে সক্ষম হয়েছে ।

গত পঞ্চাশ বছরে আমাদের অনেক আশা জাগানো অর্জন আছে । আমরা মাথা পিছু আয় এবং জাতীয় আয় অনেক গুন বৃদ্ধি করেছি । খাদ্য , বাসস্থান দারিদ্র্য , শিক্ষা , চিকিৎসা বিভিন্ন মৌলিক সূচকে আমরা অনেক উন্নতি করেছি। যে সূচক গুলো বিবেচনায় ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতি সংঘ বাংলাদেশ কে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রর মর্যাদা দিয়েছে ।

অবকাঠামো উন্নয়নেও আমরা বিশেষ উন্নতি করেছি । নিজেদের অর্থায়নে সর্বশেষ ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে পদ্মা বহুমুখী সেতুর বাস্তবে দৃশ্যমান , যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের নিজেদের সাম্যর্থের প্রমাণ দিয়েছি ।

জাতি হিসেবে আমরা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে এখনও এক হতে পারিনি ।এখনও আমাদের কে শুনতে হয় কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বা কে বিপক্ষে ? বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ যে বাঙ্গালীর মুক্তির সনদ ছিল , তা নিয়েও আমরা দ্বিধাবোধ করি । শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন এবং মেজর জিয়াউর রহমান যে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে ঘোষণা পত্রটি পাঠ করেন এখানেও আমরা এক হতে পারিনি ।জাতির পিতা যে বঙ্গবন্ধু , এমন কি বঙ্গবন্ধু শব্দটিও আমরা স্বগৌরবে বলতে দ্বিধাবোধ করি ।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ছিল একটি ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের ফসল।সে ধারাবাহিকতায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অন্যতম , যিনি মজলুম জননেতার হিসেবে পরিচিত ছিলেন ।শেরে বাংলা এ . কে . ফজলুল হক , যিনি ছিলেন যুক্ত ফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা । হোসেন শহীদ সরোয়ার্দী ছিলেন যুক্ত ফ্রন্ট গঠনের মূল নেতাদের একজন ।জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী , যিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান ।মুক্তিযুদ্ধের সকল সেক্টর কমান্ডার , বীর শ্রেষ্ঠদের অবদানের কথা খুব কম উচ্চারিত হয় ।

যে সকল মূলনীতির উপর বাঙ্গালী জাতি মুক্তিযুদ্ধ করেছিল , তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এবং সমাজতন্ত্র । সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম একটি রাষ্ট্র । কিন্তু সম্প্রীতির বিষয়ে এখনও আমরা স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি । মাঝে মাঝে সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের উপর অন্যায় এবং অত্যাচারের খবর পাওয়া যায় । সাম্প্রতিককালে সুনামগঞ্জে হিন্দুদের ঘর বাড়ি ভেঙ্গে ফেলার যে ঘটনা ঘঠেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় । এ ধরনের যে কোন ঘটনার তিব্র নিন্দা জানাই ।

যে সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল , বাস্তবে তা খোঁজে পাওয়া যায় না ।ধনী গরীবের বিরাট বিষম্য দিন দিন বেড়েই চলছে । শোষণহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা আমরা এখনও কায়েম করতে পারিনি ।

গণতন্ত্র এখনও নিরবে কাঁদে , গণতান্ত্রিক কাঠামো গুলো যেমন , আইন , শাসন , বিচার বিভাগ কে আমরা এখনও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরী করে দিতে পারিনি । গনতন্ত্রের একটি প্রধান শর্ত হলো জনগনের ভোটাধিকার । ভোটাধিকার রক্ষায় যে প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে বেশী কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে , তা হলো নির্বাচন কমিশন । আজ পর্যন্ত আমরা একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন তৈরী করতে পারিনি ।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে গণমাধ্যম , প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আগের চেয়ে অনেক বেশী সরব । কিন্তু এখানেও তাদের কে অদৃশ্য শক্তির বিধি নিষেধের মধ্যে দিয়ে সংবাদ বা খবর পরিবেশন করতে হয় । আবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কিছু কিছু ধারা স্বাধীন মত প্রকাশের অনেক বড় অন্তরায় । যে ধারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মত প্রকাশের কারণেও গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।কিছুদিন পূর্বে লেখক মুশতাক আহমেদ ডিজিটাল আইনে কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন ।

স্বাধীনতার সুবর্ন্তজয়ন্তিতে আমাদের সকল সীমাবদ্ধতা , সংকীর্তনতা , বিভেদ একদিন দূর হবে সেই প্রত্যাশা। জানিনা সে দিন কবে আসবে ?

লেখক- সাস্টিয়ান ( SUSTian )
অ্যাশবর্ন , আয়ারল্যান্ড ( Ashbourne , Ireland )
ধন্যবাদ

Facebook Comments Box