তরুণ প্রজন্মের সফলতার গল্প; ফারিদ ইফতিদা তসবিহ

0
545
Farid Ibtida Tashbeeh
Farid Ibtida Tashbeeh

তরুণ প্রজন্মের সফলতার গল্প; ফারিদ ইফতিদা তসবিহ


 

আজকে আপনাদের সাথে এমন একজনকে পরিচয় করিয়ে দিবো যার সফলতার গল্প শুনে অন্তরে প্রশান্তির হাওয়া বইবে এবং তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য সাহসের বাতিঘর বা প্রেরণা হয়ে লাইট হাউজের মতো হাতছানি দিবে। সে আর কেউ নও, তার নাম ফারিদ ইফতিদা তসবিহ।

Farid Ibtida Tashbeef
Farid Ibtida Tashbeef

কঠোর অধ্যাবসায়, নিয়মানুবর্তীতা ও সাহসীকতার উদাহরণ হচ্ছে তরুণ এই শিক্ষার্থী । ছোটবেলা ২০০২ সালে মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে মায়ের হাত ধরে আয়ারল্যান্ড আসে এই মিষ্টি মেয়েটি। মায়ের নাম শাহানাজ বেগম, পলিটিকাল সাইন্সে অনার্স মাস্টার্স এবং তার বাবাও পলিটিকাল সাইন্সে অনার্স মাস্টার্স করা। তার মা ১৩ বছর আয়ারল্যান্ড চাকুরীর পর এখন গৃহিনী, বাবা ফরিদ আহমেদ। হেল্থ এন্ড সেইফটি অফিসার এবং টিম লিডার, সুইসপোর্ট শানন এয়ারপোর্ট। বর্তমানে এনিস, কাউন্টি ক্লিয়ারের বাসিন্দা তাঁরা।

তসবিহ প্রথম জুনিয়র ইনফেন্ট এ ভর্তি হয় এথলোন, কাউনটি মিথের একটি স্কুলে। চাকুরীর সুবাদে তার বাবা ২০০১ সালে এথলোন কাটিয়েছে। পরবর্তীতে ২০০২ সাল হতে এনিস, কাউন্টি ক্লেয়ারে স্থানান্তরিত হন। ১ম দিন স্কুলে আইরিশ সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলো where are you from ? সে কোন উত্তর দিতে পারে নাই। সদ্য বাংলাদেশ থেকে আসা তসবিহের নতুন দেশে বেড়ে উঠার গল্পটি পানির মতো একেবারেই সহজ ছিলোনা। পরবর্তিতে সাংবাদিকরা তার একক ছবি প্রকাশ করে একটি নিউজ করে, A shy girl from Pakistan. যদিও সে সাংবাদিক ভুল করে Bangladesh এর পরিবর্তে Pakistan লিখে ফেলে।

আজ তার কঠোর পরিশ্রমে সে ইলিং, ইউকের ওয়েস্ট লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে একজন এসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে নিজের স্থান তৈরী করে নিতে পেরেছে। মাঝে তার সফলতার ও সাহসীকতার ইতিহাস। ২০১৫ সালে লিভিং সার্টিফিকেট পরিক্ষায় সফলতার সাথে ভাল রেজাল্ট করার কারনে সুযোগ পায় ইংল্যান্ডের কলচেস্টারে একটি নামকরা এসেক্স ইউনিভার্সিটিতে, কম্পিউটার সাইন্স ও ইলেকট্রনিক ইন্জিনিয়ারিং এর উপর। তাঁকে ইনটেল আয়ারল্যান্ড থেকে লিভিং সার্টিফিকেট উত্তীর্ণ হওয়ার পরে স্কলারশীপও অফার করা হয় কিন্তু ইংল্যান্ড পড়তে যাবার কারনে সে এই স্কলারশীপ গ্রহণ করে নি।

স্কুল জীবনে সে ছিলো সকল শিক্ষকের অনেক আদরের। স্কুল বন্ধুদের এবং তাদের পরিবারের মানুষগুলোরও আদরের ছিলো সে। তসবিহ, পরিচিত সবাই এমনকি গ্রানিদেরও (সহপাঠীদের দাদা দাদী, নানা নানী) পছন্দের এক নম্বরে ছিলো সে।

Farid Ibtida Tashbeeh
Farid Ibtida Tashbeeh

সাহসী ছিলো বলে ইংল্যান্ড গিয়েই ইউনিভার্সিটিতে পড়ার পরিকল্পনা করতে পারে এবং সেখানে সে সততা ও নিষ্ঠার কারনে স্টুডেন্ট এম্বাসেডর হয়। সে তার প্রতিভা এবং বুদ্ধিমত্তার কারনে টীম লিডারশীপ অর্জন করে। প্রতি প্রজেক্টে লিডার হয়ে সুনাম অর্জন করে এবং ভালো রেজাল্ট করে বিএসসি গ্রাজুয়েট হয়। এবং সে মাস্টার্সে কঠোর পরিশ্রম করে ঐ ইউনিভার্সিটি হতে সর্বচ্চ রেজাল্ট, ফার্স্ট ক্লাস ডিস্টিংশনের সাথে পাশ করে।

তার সমাপ্ত প্রজেক্টের মধ্যে নিচের দুইটি প্রজেক্ট জনপ্রিয় ছিল।
১: Humanoid (paper) in the newly opened smart home (I space) to develop a cognitive impairment (like dementia) human aware Motion planing was implemented using python 3 and Matlab.
২: 3D web design

তার দুটি প্রজেক্টই ভুয়সী প্রশংসা পায় ও সবার নজর কাড়ে। একমাত্র ছাত্র হিসেবে এমন কঠিন বিষয় নিয়ে কাজ করে ও সাফল্য পায়। পরবর্তীতে একই ইউনিভার্সিটি হতে একই বিষয়ে ২০২০ সালে মাস্টার্স শেষ করে। নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, কম্পিউটার সিকিউরিটি, মোবাইল, সোশাল এপপ্লিকেশন প্রোগ্রমিং, রিসার্চ মেথোডোলজির উপর পারদর্শীতা অর্জন করে সে। করোনার কারনে আয়ারল্যান্ড এসে ৩ মাস আটকে পড়ার পরও তার পেপার রোবট প্রজেক্ট (যে রোবট বয়স্ক মানুষের চিকিৎসায় নার্স হিসাবে কাজ করবে) সেই রোবটটির থিসিসে ৮৯ নম্বর পায়।

Related Story:তরুণ প্রজন্মের সফলতার গল্প; আসিফ হোসাইন

Tashbeehমাস্টার্স পরিক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের অপেক্ষায় ও ফাইনাল মাস্টার্স থিসিস করার সময় সে ৬ টি জব ইন্টারভিউ দেয়। প্রতিটি জবেই অফার পায় এবং তার মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী শুরু করে। ৪ সপ্তাহ চাকুরীরত থাকা কালীন সময়ে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ইন্টারভিউতে একমাত্র প্রার্থী হিসাবে এসোসিয়েট প্রফেসর হিসাবে ওয়েস্ট লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে নিয়োগের অফার পায়। তখনও তার মাস্টার্স রেজাল্ট প্রকাশিত হয়নি। ইউনিভার্সিটির সহায়তায় স্কলারশীপ নিয়ে এ বছর পিএইচডি করার পরিকল্পনা করছেন সে। চাকরিরত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “বিগ এসেক্স এওয়ার্ড” পায় মেনটরিং ও স্টুডেন্ট এম্বাসেডর এক্টিভিটিজের জন্য।

সে সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা পছন্দ করে। ২০১০/ ১১/১২ সালে সে তার মা ও বাবার সাথে ইংরেজি রাপ গান গেয়ে, আয়ারল্যান্ডের, লন্ডনের ও বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি উৎসবে সবার মন কেড়ে নিয়েছিলো।

সদা হাস্যোজ্জ্বল, বিনয়ী ও সুন্দর আচার ব্যবহারের জন্য আইরিশ ও বাংলাদেশিদের কাছে সে খুবই জনপ্রিয়। এখনো জুনিয়র স্কুল, হাইস্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটিতে ফারিদ ইফতিদা তসবিহ’র কথা বললে সকলে তাকে চিনে ফেলে।

আমরা তাসবিহের সফলতা কামনা করি। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার অনুজেরা উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

Related Story:অনন্য উচ্চতায় আসীন বাংলার কৃতি সন্তান প্রফেসর সেলিম হাশমি

Facebook Comments Box