দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্নের জন্য চাই এনালগ পদ্ধতিতে হাঁটা

0
234

রোম একদিনে গড়ে ওঠেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোন আলাদিনের চেরাগের দান নয়। প্রিয় ধর্ম ইসলাম কথায় কথায় গল্পে গল্পে চোখের পলকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়নি। বস্তুত বিশ্বে যা দৃষ্টান্ত বা কীর্তিমান হয়ে আছে তা কখনো একদিনে একবারে একক চেষ্টায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। এর জন্য সংঘবদ্ধ ভাবে মানুষের সময়, মেধা, শ্রম, অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

আমরা আয়ারল্যান্ডে একটি নতুন ধারা বা পদ্ধতির প্রতিষ্ঠা ঘটাতে যাচ্ছি। এর জন্যও সময়ের প্রয়োজন, ধৈর্যের প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ভুল ভ্রান্তি থাকতে পারে, কাল ক্ষেপণ হতে পারে। এতে অধৈর্য বা হতাশাগ্রন্থ হলে চলবেনা। সম্প্রতি ভোটার নিবন্ধনের তালিকাটি দেখে যারা হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়েছেন তাদের সাথে আমি মোটেও একমত নই। অনলাইন পদ্ধতিতে ভোটার নিবন্ধন একটি নতুন প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি। প্রথম বারের মতো আমাদেরকে এ পদ্ধতির সাথে পরিচিত হতে হচ্ছে। সুতরাং একটু ধীর মন্থর গতিতে কাজটি এগোবে তাই স্বাভাবিক। তাছাড়া নিবন্ধনের কাজটি প্রকৃতপক্ষে ভোটারদের নয়। নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতায় তা সম্পন্ন হওয়ার কথা। এরপরো সামাজিক দায়বদ্ধতার আলোকে স্বপ্রণোদিত হয়ে কিছু সংখ্যক ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। দেশটিতে বসবাসকারী বাঙ্গালির তুলনায় সংখ্যাটি নগণ্য হলেও স্বেচ্ছায় নিবন্ধনকৃত হিসেবে এ সংখ্যাটি একেবারেই কম তা বলতে আমি রাজি নই। চূড়ান্ত চেষ্টার পর যদি ভোটার নিবন্ধনের তালিকাটা অসমাপ্ত থেকে যায় বা অসন্তোষজনক হয় তবেই কেবল হতাশাগ্রস্ত হওয়া সাজে বলে আমি মনে করি।

কি কারণে এখনো অধিকাংশ মানুষ ভোটার নিবন্ধন থেকে দূরে রয়েছে সে আলোচনায় আমি যাবোনা।বরং চূড়ান্ত চেষ্টার মাধ্যমে কিভাবে সকলকে দ্রুত নিবন্ধনে সম্পৃক্ত করা সম্ভব তাই হবে আমার আজকের প্রতিপাদ্য বিষয়।

ডিজিটাল পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের জন্য আমরা কেবল মাত্র ডিজিটাল প্রচারণার আশ্রয় নিয়েছি যা কিনা যথেষ্ট নয়। আমার জানামতে এ আধুনিক সমাজও এমন অনেক আছেন যারা এখনো পুরনো ধ্যান ধারণার ধারক বাহক। কেউ কেউ এখনো মান্ধাতার আমলের বটমওয়ালা সেলফোন ব্যবহার করেন যাদের ফেসবুক সহ অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে সম্পর্ক নেই বললেই চলে। অনেক শিক্ষিত পরিবারও আছেন যাদেরকে আমাদের নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এরকম এক দম্পতি আজ সকালে আমার বাসায় এসেছিলেন। কথায় কথায় জানতে পারলাম নিবন্ধনের প্রতি খুব বেশি যে আগ্রহ তা নয়, তবু তারা তা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু “এয়ার কোড” ও ” আই অ্যাম নট এ রোবট” এ দু’ সমস্যার ( তাদের ভাষায়) জন্য তারা আর এগোতে পারেননি। আমি তাৎক্ষণিক মুহূর্তে জায়গায় বসিয়ে রেখে তাদের দুজনের নিবন্ধন সম্পন্ন করি। কথা গুলো কাউকে হেয় বা ছোট করার জন্য নয়। বরং নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কাজটি কচ্ছপ গতিতে এগিয়ে যাওয়ার বাস্তব কারণ বা চিত্রটি তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র।

তাই আমি মনে করি, সময় বাড়িয়ে কেবল ডিজিটাল প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে নিবন্ধনের কাজটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা মোটেও সম্ভব নয়। এ জন্য এনালগ পদ্ধতিতেও হাঁটতে হষে। এনালগ পদ্ধতি বলতে বুঝাতে চাচ্ছি, প্রথমত যারা নির্বাচন পরিচালনা পরিষদে আছেন তারা যদি একটু ত্যাগ স্বীকার করে শুধু একদিন কাউন্টি ভিত্তিক সরেজমিনে লেপটপ নিয়ে ঘুরে ঘুরে নিবন্ধনের কাজটি করতে পারেন তাহলে দেখা যাবে এর সিংহ ভাগ ওই একদিনেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। প্রয়োজনে তারা স্থানীয় উপদেষ্টা, সম্ভাব্য প্রার্থী বা যে কোনো স্চ্ছোসেবী ব্যক্তির সহযোগিতাও নিতে পারেন।

দ্বিতীয়ত প্রত্যেক শ্রেণীর লোকেরই সমাজে কিছুটা দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা থাকে। সে দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা থেকে নিবন্ধনের প্রচারটি আমরা কেবল মাত্র ফেসবুকে শেয়ার করেই ক্ষান্ত না থেকে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে একে অন্যকে মৌখিক তাগিদ বা ফোনে উৎসাহ প্রদানও করতে পারি। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে কেউ কেউ নির্বাচন বা ভোট দেয়া নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেও নিবন্ধনকৃত ভাটাবেজের গুরুত্ব অপরিসীম এ কথাটি বুঝতে সক্ষম হলে তারা আর পিছ পা হবেনা। আমার বিশ্বাস, এনালগ পদ্ধতিতে এভাবে এগোতে পারলে তা কোরামিনের চেয়েও বেশি কার্যকর হবে।

সাজেদুল চৌধুরী রুবেল
লেখক- প্রাবন্ধিক ও কলামিসট

Facebook Comments Box

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here