স্বৈরাচার যুগে যুগে

0
497
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিকৃত শহিদ নূর হোসেন

আজ ১০ ই নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন-সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৮৭ সালের ১০ই নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নূর হোসেন এর বুকে লেখা ”স্বৈরাচার নিপাত যাক” আর পিঠে লেখা ”গণতন্ত্র মুক্তি পাক”- গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে পুলিশ এর গুলিতে নিহত হন।

নূর হোসেনের জন্ম বরিশালে ১৯৬১ সালে। জীবিকার সন্ধানে তাঁর গোটা পরিবার এসেছিল ঢাকায়। ১৯৮৭ এর ১০ নভেম্বর ছিল ঢাকায় সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি। নূর হোসেন ছিলেন প্রতিবাদী যুবক। পরিবারের দিক থেকে বারণ ছিল যাতে নূর হোসেন মিছিলে না যান। তবুও নূর হোসেন মিছিলে গেলেন। আগের দিনই ইকরাম নামে এক সাইনবোর্ড লেখকের কাছে গিয়ে নিজের শরীরকে পোস্টারে  পরিণত করেছিলেন। লেখার সময়ই নূর হোসেনকে ইকরাম সতর্ক করে বলেছিলেন যে – “এ কাজের অর্থ হলো নিশ্চিত কারাগারে যাওয়া। সেই সঙ্গে তাঁর নিজেরও বিপদে পড়া”।

নূর হোসেনের গোটা শরীরটাই যেন একটা ত্রিমাত্রিক পোস্টার। ১০ তারিখ  ভোরে শহরের প্রথম আলোয় ঝলসে উঠেন নূর হোসেন। সূর্যের সব আলো প্রতিফলিত হয়েছিল তাঁর বুকে পিঠে। তাই নির্মম বুলেটও ছুটে আসে নূর হোসেনেরই দিকে। পুলিশের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় নূর হোসেনের দেহ, মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কবি শামসুর রাহমান যেমনটি লিখেছেন তাঁর কবিতায়, “ঝাঁক ঝাঁক বন্দুকের সীসা, নূর হোসেনের বুক নয়, বাংলাদেশের হৃদয় ফুটো করে দেয়”।

মরণ যন্ত্রণায়  যখন নূর হোসেন ছটফট করছিলেন তখন এক যুবক তাঁকে একটি রিকশায় করে হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন। নূর হোসেনকে বহনকারী রিকশাটিকে পুলিশ  চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে টেনে হিঁচড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেয় তারা। তিনি যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন, তখন একজন নিষ্ঠুর পুলিশ সদস্য পায়ের বুট দিয়ে তার বুক চেপে ধরে। স্বৈরাচারের পুলিশেরা এতটাই নিষ্ঠুর ছিল।  

১৯৯৬ সালে এরশাদ নূর হোসেনের মৃত্যুর জন্য জাতীয় সংসদে অফিসিয়ালভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।তার দল জাতীয় পার্টি ১০ ই নভেম্বরকে “গণতন্ত্র দিবস” হিসেবে পালন করে।   

নূর হোসেন এর আত্মহুতি কি আজো এনে দিয়েছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র। যে গণতন্ত্র রক্ষার বলি নূর হোসেন হয়েছেন, সে গণতন্ত্র কি আজো স্বাধীন বাংলায় স্থাপিত হয়েছে? নূর হোসেনের আত্মত্যাগ এর ফল কি আজো পাচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশ? যদি তাই না হয়, তাহলে বৃথাই যাবে নূর হোসেনের রক্ত, বৃথা এই স্বাধীন বাংলাদেশ। 

Facebook Comments Box