সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৭, আহত তিন শতাধিক

0
32

সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৭, আহত তিন শতাধিক

সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিষ্ফোরণের পরই ডিপোতে থাকা আমদানি ও রফতানির বিভিন্ন মালামালবাহী কনটেইনারে আগুন ধরে যায়। এই বিষ্ফোরণে কম্পনের আওয়াজ এতটাই তীব্র ছিলো যে, আশেপাশের এলাকার অধিকাংশ বিল্ডিয়ের কাঁচের গ্লাস ভেঙে যায়। এই ঘটনায় ৭ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত তিন শতাধিক।

সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার রাত ১০ টার দিকে এই ভয়াবহ বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিষ্ফোরণের সাথে সাথে কনটেইনারে আগুন ধরে যায়। ডিপোতে থাকা রাসায়নিক পদার্থবাহী কনটেইনার থেকে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

জানা যায়, আগুন একটা কনটেইনার থেকে আরেকটাতে ছড়িয়ে পড়ছে।আর এতে মালবোঝাই এইসব কনটেইনারে একের পর এক বিষ্ফোরণ ঘটছে। বিষ্ফোরণে কেঁপে উঠছে আশেপাশের এলাকা। এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৬ টা ইউনিট কাজ করছে।

এখনো নেভেনি চট্টগ্রাম কনটেইনার ডিপোর আগুন

চট্টগ্রামের বিএম কনটেইনার ডিপোতে লাগা আগুন এখনো নেভেনি। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

জানা গেছে, প্রায় ৫ ঘণ্টা পার হওয়ার পর আগুনের তীব্রতা কমার বদলে বেড়েছে। এর ফলে চারপাশে ধোঁয়া ছড়াচ্ছে।

২৬ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এ ডিপোটিতে প্রায় ৫০ হাজার কনটেইনার রাখার ধারণক্ষমতা রয়েছে। বিশাল এই ডিপোটিতে পানির অভাব থাকায় আগুন নেভানোর কাজে বিঘ্ন হচ্ছে।

পানির পর্যাপ্ত সূত্র না থাকায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এখন অনেকটাই হাল ছেড়ে দিয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ডিপোর ভেতরেও প্রবেশ করতে পারছেন না।

পরিস্থিতি ভয়াবহ, তিল ধারণের জায়গা নেই চমেক হাসপাতালে

অগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৮ টি ইউনিট । রাত ২ টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

এদিকে আহতদের মধ্যে শতাধিক লোককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে তিলধারণের জায়গা নেই। একটু পরপর সাইরেন বাজিয়ে আসছে এম্বুলেন্স । আহতদের পাশাপাশি তাদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের চারপাশ।
জানা যায়, এই ঘটনায় চট্টগ্রামের সকল চিকিৎসকসহ চিকিৎসা সেবায় জড়িততে স্ব স্ব কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরী। তিনি নিজেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছেন।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক মানবজমিনকে বলেন, সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে।

এদিকে ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা জানিয়েছে, ওই ডিপোতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের একটি চালান ছিল।সেখান থেকেই রাত ১০ টার দিকে প্রথম বিষ্ফোরণ ঘটে। পরে সেখানে আগুন ধরে যায়।এই আগুন বাকি কন্টেইনারেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএম ডিপোটি চট্টগ্রামের স্মার্ট গ্রুপের মালিকানাধীন। এটি দেশের ৫ম বৃহত্তম বেসরকারি কনটেইনার ডিপো। প্রতিষ্ঠানটির এমডি মুজিবুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, কি কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কনটেইনার থেকেই আগুন ধরেছে বলে ধারণা করছি। নৈতিকতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হতাহতদের পাশে থাকবো।

Facebook Comments Box