সিলেটে বন্যা : অসহায়ত্বের করুণ চিত্র

0
25

 

কবির আহমদ

বাংলাদেশে বন্যার ভয়াবহতা আমাদের কারো অজানা নয় বন্যার ভয়াবহতার কথা চলে আসলে , ৮৮ সালের বন্যার কথা আমরা উদাহরণ হিসেবে  নিয়ে আসি তখন হয়তো বাংলাদেশ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ  মোকাবিলা করার অর্থনৈতিক সামর্থ্য , জনবল এবং প্রযুক্তি  ছিল না যে কারনে বন্যায় মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ছিল অনেক বেশী কিন্তু কথা হচ্ছে ২০২২ সালে এসেও আমরা কি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ?

মূহুর্তে সিলেটের ৮০ শতাংশ অঞ্চল বন্যার পানিতে ডুবে আছে সংবাদে প্রকাশ সিলেটবাসী অতীতে কখনও ধরনের বন্যার কবলে পড়ে নি । বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে সিলেটের বন্যার ভয়াবহতা , জনদুর্ভোগ , ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার ,দুর্গত মানুষের নির্ঘুম রাত এবং  অনিশ্চয়তার মধ্যে সিলেটবাসী এক একটি কঠিন দিন অতিবাহিত করছেন

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী সরকার এখন পর্যন্ত যে পরিমান ত্রাণ সরবরাহ  করেছেন , এতে শুধু চার ভাগের এক ভাগ বন্যার্তদের জন্য যথেষ্ট এই যদি অবস্থা হয় তাহলে বাকী তিন ভাগ মানুষের কি হবে ? কিন্তু আমরা তো সব সময় বলে আসছি , দেশ উন্নয়নের মহা সড়কে অবস্থান করছে মাথাপিছু আয় , জাতীয় আয় অনেক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে আজ যখন দেশের একটা  অঞ্চলের মানুষ পানি বন্দি হয়ে জীবনের সঙ্গে পান্জা লড়ছে , তখন কি আমরা উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র দেখতে পাই ?

শুধু তাই নয় , মাঠ পর্যায়ে সংবাদ কর্মীদের তথ্য অনুযায়ী সরকারের মন্ত্রী , এম পি এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বন্যা প্লাবিত জনগণকে সরজমিনে পরিদর্শন বা পর্যবেক্ষন করতে আসেন নি বলে উল্লেখ করেন দুর্গত জনগণ কি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে এতটুকুও আশা করতে পারেন না জাতি হিসেবে এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে ?

বাতিঘরের মতো  , অনেক ব্যক্তি এবং সংগঠন বন্যাতর্দের পাশে নিজেদের সাধ্যমত এসে দাড়িয়েছেন ধরনের উদ্যোগ সত্যি আমাদের কে আশান্বিত করে এবং সবার সম্মিলিত প্রয়াসে দুর্যোগ মোকাবিলা করা অসম্ভব কিছু নয় আশার কথা হচ্ছে ইউরোপ  , আমেরিকা এবং মধ্যপ্রচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরাও সিলেটের বন্যার্তদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন   ব্যক্তিগত বা বেসরকারি উদ্যোগে বন্যা দুর্গতদের জন্য যে  সাহায্য আসবে , তা কিন্তু যথেষ্ট নয় এক্ষেত্রে প্রয়োজন সরকারি সাহায্য   কারণ বন্যা পরবর্তী  আক্রান্ত জনগণের পুনর্বাসন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন হবে সরকারের জন্য অনেক বড়  চ্যালেঞ্জ।তাৎক্ষণিক ভাবে সরকারের পক্ষে ধরনের দুর্যোগ মোকিবলা করা সহজ নয় , সেজন্য প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা

বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশে তো আজ প্রথম নয় প্রায় প্রতিবছরই কোন না কোন অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বন্যা প্রতিরোধ , মোকাবিলা এবং নিয়ন্ত্রনে আজোও কি আমরা জাতীয় ভাবে কোন পরিকল্পনা গ্রহন করেছি ? যদি থাকতো তাহলে আজ বন্যা মোকাবিলায় সরকারের অসাহায়ত্ব চোখে পড়ত না উদাহরণ হিসেবে আমি হল্যান্ডের ডেল্টা প্রজেক্টকথা উল্লেখ করতে পারি এটাকে ডাস ডেল্টাওয়ারকেন  বলা হয়ে থাকে এটি হল্যান্ডের একটি বিশাল বন্যা নিয়ন্ত্রন প্রকল্প ১৯৫৩ সালে হল্যান্ডে একটি ভয়ংকর বন্যা হয়েছিল এবং বিপুল জানমালের ক্ষতি হয়েছিল এই প্রেক্ষিতে সরকার ডেল্টা প্রজেক্টগ্রহন করেন এবং ১৯৮৬ সালে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেন যার সুফল এখনও তারা পাচ্ছেন আমরা কেন ৮৮ সালের মহাপ্লাবনের পরে আজও  এভাবে ভাবতে পারি না ?

পরিবেশবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন , দিন দিন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে যে কারণে অতিবৃষ্টি , অনাবৃষ্টি , বন্যা , খরা  এবং অনান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে এর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন , বনজঙ্গলে অবাধে গাছ নিধন , পাহাড় নিধন , অপরিকল্পিত নগরায়ন , শিল্পায়ন , নদীর তল দেশে পলিথিন এবং পলিমাটি জমে নদীর নাব্যতা নষ্ট হওয়া গুলির মধ্যে অন্যতম অর্থাৎ  প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি , মানবসৃষ্ট দুর্যোগও কোন অংশে কম নয়

কবির আহমদ

সাস্টিয়ান

Facebook Comments Box