সামনে ইলেকশন, কাকে ভোট দিবেন? ড. নাসিম মাহমুদ

0
200
Dr. Nasim Mahmud
Dr. Nasim Mahmud

আপনার ভোট আপনি দিবেন, দেখে, শুনে, বুঝে দিবেন।

আপনার যদি ভোটাধিকার থাকে, এই আলোচনাটা পড়া জরুরী। সামনে ইলেকশন, দেশে ও আমাদের দ্বিতীয় দেশে। সাধারণ ভাবে যদি বলি, কখনও ভেবে দেখেছেন, ভোট এলে কাকে ভোট দিবেন, ভোটই বা কেন দিবেন? আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, সীমাহীন প্রোপাগান্ডার চাপে অনেকে, এমন কি তথাকথিত শিক্ষিতরাও ভুলেই গেছি, ভোট কেন দিতে হয়। ভোট দেয়া কেন জরুরী। আপনি জানেন কি, ভোট দেয়ার সাথে আপনার স্বাধীনতার সম্পর্ক আছে? অল্প কথায় বলি, স্বাধীনতা হল আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার। আপনি কিভাবে চলবেন, কি করবেন সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার মৌলিক অধিকার। কিন্তু একটা সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থায়, সকলে মিলেমিশে একত্রে ভালভাবে থাকতে চাইলে কিছু আইন, কানুন ও রেওয়াজ মেনে চলতে হয়। সেটা নির্দিষ্ট করার জন্য আলোচনা দরকার, বিতর্ক দরকার। তাই না? কিন্তু সবাই যদি সেটা করতে যাই তাহলে তো কারও কথাই শোনা হবে না। তাই আমরা জনপ্রতিনিধি পাঠাই। অর্থাৎ, সমাজের সকলে মিলে সমাজের আকাঙ্ক্ষা, সাধারণের মেধা ও মননশীলতার সাথে মিলে এমন একজন প্রতিনিধি পাঠায়, যে সকলের পক্ষ হয়ে আলোচনা করে, বিতর্ক করে সকলের জন্য আইন, কানুন ও রেওয়াজ নির্ধারণ করে। এটা হল ওয়েস্ট মিনিস্টার আদলের গণতন্ত্র। (এরচেয়ে সংক্ষেপে ও পরিষ্কার ভাবে কেউ যদি ব্যাখ্যা করতে পারেন, জানাবেন আপডেট করে দিব।)। অর্থাৎ আপনি স্বাধীন ও জন্মগত সার্বভৌম উপভোগ করেন তখনই যখন সমষ্টিগত ভাবে আপনার আকাঙ্ক্ষা, মেধা ও মননশীলতার কেউ আপনার প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রয়োগ কমই দেখতে পাই। এর প্রথম প্রধান কারণ, অশিক্ষা, দুর্বল শিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষায় নৈতিকতার অভাব।
কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয় এই যে, আমরা একটা উন্নত বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশে থাকার সুযোগ পাচ্ছি। উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি, কেউ পড়ছি, কেউ পড়াচ্ছি। তাই গণতন্ত্র চর্চার অবাধ সুযোগ আমাদের হাতে। আমরা স্বাধীনতার প্রকৃত মানে উপভোগ করতে পারছি। আর তাই ভোট প্রদানের পক্ষে সকলে আহবান জানাচ্ছি। এখন আসি আবাই নির্বাচন নিয়ে দুটি কথা নিয়ে। আমার দেশের কেউ কেউ ভোট প্রদানে অনীহা দেখাচ্ছেন। অনেকে ভোটার হওয়ারও প্রয়োজন বোধ করেন নি। যদিও আবাই শতভাগ সমাজ সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান, কিন্তু ভোট প্রদান করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করাটাই হবে সকলের জন্য শোভন।

ভোট কাকে দিবেন?
অনেক প্রার্থীই ভোট চেয়েছেন। সুন্দর ভাবে, নানা ভাষায় বা ভঙ্গীতে। প্রায় সবাই দোয়া ও ভোট চেয়েছেন। আমি সকলকেই বিনয়ের সাথে জানতে চেয়েছি, আপনাকে কেন ভোট দেব? অনেকেই সুন্দর উত্তর দিয়েছেন। সকলের জন্য শুভকামনা রইলো।

আবাই কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটা সামাজিক সংগঠন, আপনার আমার সকলের সংগঠন। যেহেতু এটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়, তাই ভোট প্রদানে আমাদের ভিন্ন ভাবে ভাবতে হবে। কারণ নির্বাচিতরা এখানে আইন করবে না, বিতর্কও করবে না। তাহলে করবে কি? অনেকের মাঝে ভুল একটা ধারনা রয়েছে যে, আবাইএর কাজ বোধহয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, যখন আবাই সুপ্ত অবস্থায় ছিল, এখানে বিশাল বৈশাখী মেলা হয়েছে, বই মেলা হয়েছে, ঈদ পুনর্মিলনী হয়েছে। বাংলাদেশে জাতিয় অনুষ্ঠান হয়েছে। তারমানে এসব আবাই ছাড়াই হয়। তাহলে আবাই এর প্রয়োজন কেন। আসলে, যেহেতু আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের দূতাবাস নেই, অনেক কাজই সামাজিক ঐক্যের মাধ্যমে করা সহজ। যেমন, এখানে চেম্বার অব কমার্স করা, দূতাবাস স্থাপনে সকলে মিলে আবেদন করা, দেন দরবার করা। কোন বিপদে সহজে ঐক্য বধ্য হওয়ার একটা পূর্বনির্ধারিত জায়গা। তাই সেই যায়গায় যারা জনসেবা প্রদান করতে পারবেন, তেমন যোগ্য মানুষ দরকার।
অনেকেই বলছেন, এমন মানুষ তারা চান, যেন তাদেরকে সবসময় পাওয়া যায়। এই বলা নির্দেশ করে, আমাদের সচেতনতার অভাব কত তীব্র। আপনি, আপনার প্রতিনিধিত্ব করতে সংগঠনে পাঠাতে চাচ্ছেন কর্মহীন ব্যক্তিদের কে। অথচ হওয়া উচিৎ, আপনি আপনার ওকালতি করতে পাঠাবেন এমন সকল উকিল যারা আপনার ওকালতি করতে পারবে।

একটা উদাহরণ দিয়ে বলি, একজন এসে বললেন তিনি আই-টি বিষয়ে কাজ করতে চান। কিন্তু আবাই এ আই-টি ‘র কি কাজ আছে? তারা ভেবেছেনে ওয়েব সাইট ঠিক করবেন, ইত্যাদি। সেটা খুব ভাল উদ্যোগ। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন এমন এক আই-টি প্রতিনিধি যিনি আইরিশ শিক্ষামন্ত্রী ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বলতে পারবেন, দেখ আমি বাংলাদেশে এইচ-ই-এ-নেট এর আদলে একটা প্রতিষ্ঠান গড়তে চাই, তুমি কি সহায়তা করতে পারো? কিন্তু এই আই-টি প্রতিনিধির সারাদিন সময় আছে কি না, ডাক দিলেই আসেন কি না, সেটা হয়ে গেছে আমাদের কিছু মানুষের কাছে মুখ্য।

আই-টি একটি উদাহরণ মাত্র। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের প্রতিনিধির হওয়া চাই এমন চৌকস, যিনি এই দেশে আমার প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন, আপনার প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। তাই যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিন। ভোট প্রদান আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার, আর না প্রদান আপনার আমানতের খিয়ানত। আপনার ভোট আপনি দিবেন, দেখে, শুনে, বুঝে কেবল মাত্র আপনার প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে এমন যোগ্য লোককেই দিবেন।

লেখক পরিচিতি:
ড. নাসিম মাহমুদ বর্তমানে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ফরচুন-ফাইভ হান্ড্রেড পাঁচটি কোম্পানির একটি ইউনাইটেডহেল্থ গ্রুপের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শাখার প্রিন্সিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং ডাবলিনের ন্যাশনাল কলেজ অব অ্যায়ারল্যান্ড (এনসিআই) এর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি মেম্বার।

Facebook Comments Box