শিশুদের জন্য ইসলামিক বিনোদন – আরিফ ভূঁইয়া

0
440

ক্রিসমাস উপলক্ষে ডিসেম্বর মাসে এসব দেশে বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন ছায়াছবি (মুভি) মুক্তি দেয়া হয়। উৎসবের আমেজ দেখানোর পাশাপাশি সেই প্রতিটি ছায়াছবিতেই খুব সুন্দরভাবে খ্রিস্ট ধর্ম, সামাজিক বন্ধন, চ্যারেটি সহ একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়গুলো দেখানো হয়। এদেশের বাচ্চারা যেভাবে বিনোদনের ছলে তাদের ধর্ম সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছে, সেই সহজ উপায়ে আমাদের দেশের বাচ্চারা ইসলাম সম্পর্কে ধারণা পায়না।

ইউটিউবে গোপালভাড় সিরিজ দেখানো হয়। একটু খেয়াল করে দেখবেন যে এই এনিমেটেড সিরিজের প্রায় প্রতিটি পর্বেই হিন্দুধর্মাবলম্বীদের পূজা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান দেখানো হয়। বাচ্চারা একদিকে যেমন আনন্দ পাচ্ছে তেমনি অন্যদিকে হিন্দুধর্মের বিভিন্ন রীতিকালচারের সাথে পরিচিত হচ্ছে। বাচ্চারা যে এই অনুষ্ঠান দেখেই পাড় ধার্মিক হয়ে যাচ্ছে ব্যাপারটি সেরকম নয় কিন্তু গোপালভাড়ের মতন একটি মজার প্লটের ছলেও অনুষ্ঠানের আয়োজকরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছেন।

গবেষণা বলে যে ব্যবহারিক জীবনের উদাহরণ দিয়ে পড়ানো হলে সেটি ছাত্র-ছাত্রীরা খুব সহজে তাদের মনে ধারণ করতে পারে এবং পড়া তখন তার কাছে বাধ্যবাধকতা নয় বরং একটি আনন্দের উপলক্ষে পরিনত হয়। অন্যান্য ধর্মের বাচ্চারা যেভাবে আনন্দ নিয়ে তাদের ধর্মকে দেখছে এবং শিখছে, আমরা কি আমাদের বাচ্চাদের ইসলাম সম্পর্কে সেই শেখার আনন্দটুকু দিতে পেরেছি?

আমাদের দেশের বেশিরভাগ অভিভাবকদেরই ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত। দূর্ভাগ্য জনক হলেও নামায, রোজা এবং কিছু হাতে গোনা হাদিসের মধ্যেই তাদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ। কয়েকজন ভালো ইসলামিক বক্তা ছাড়া বেশিরভাগই ইউটিউবে বা ওয়াজ মাহফিলে কি বলছে এবং প্রচার করছে সেটি নতুন করে বলার কিছুই নেই। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে বাচ্চারা ইসলাম সম্পর্কে সঠিকভাবে শিখবে কার কাছে?

সংস্লিষ্টদের বলবো, দেশে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ হচ্ছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু এই দিকটি নিয়ে কেউই ভাবছেনা। দেশে মারাত্মক হযবরল অবস্থা চলছে। ভবিষ্যৎ ভালো দেখতে চাইলে বাচ্চারা যে ধরনের বিনোদনে আগ্রহী সেরকম নৈতিকতা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান বানান। বিনোদনের ছলেই ধর্ম এবং নৈতিকতা সম্পর্কে তাদের সঠিক ধারণা দিন। তারা যদি মনের আনন্দ নিয়ে ধর্মকে জানে তাহলে সেই ধর্মীয় শিক্ষার জ্ঞানকে তারা সমাজেও প্রতিফলন করতে পারবে।

Facebook Comments Box