লিমরিকে কনস্যুলার সার্ভিস প্রসঙ্গে লন্ডনস্থ হাইকমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ

0
101

আয়ারল্যান্ডের সরকারি চিকিৎসাব্যবস্থা খুবই উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত। তবে কচ্ছপ গতির বলে ইন্ডিয়ার চেন্নাইতে আসি তড়িৎ চিকিৎসাসেবা নেয়ার জন্যে। এখানে এসে বুঝতে পারি, যেনো বাংলাদেশিরাই চেন্নাইটাকে বাঁচিয়ে রেখেছে! এখানকার লোকজন ও এ্যাপেলো হসপিটালের কর্মচারীদের দুরাচার ও বৈষম্যমূলক আচরণ আমাকে বেশ হতাশ করেছে। এমন হতাশাজনক পরিস্থিতিতে খিটখিটে মেজাজ নিয়ে যখন হোটেলে ফিরলাম তখনই আয়ারল্যান্ড থেকে এক বন্ধুর ফোন পেলাম। তিনি যেনো ‘কাটা গায়ে নুনের ছিটা’ দিলেন। বললেন, “কি মিয়া, খুব তো বড়ো করে বলেছিলেন আবার যখনই আয়ারল্যান্ডে কনস্যুলার সার্ভিস হবে, তা’ হবে লিমরিকে। কিন্তু কই! লিমরিকে তো হচ্ছে না, হচ্ছে কিলার্নিতে।” বিগড়ে থাকা মেজাজ নিয়ে তাঁর সাথে এ বিষয়ে আর কথা বলার মন চাইলো না। ফেসবুকে চোখ বুলিয়ে দেখলাম, বড়ো বড়ো ছবির বাহারে কিলার্নিতে কনস্যুলার সার্ভিসের মহোৎসব চলছে। এ মহোৎসবের আনন্দে আমিও আনন্দিত, বিমোহিত।

তবে আমাকে পীড়া দিয়েছে, বেদনাহত করেছে অন্য কারণে। কেনো? একটু অতীতে ফিরে যাই। যদিও ভেবেছিলাম, অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করে আর লিখবো না। তা’ছাড়া, আমাদের ওখানে লেখালেখিতে যে খুব বেশি কাজ হয় তাও নয়। কয়েক বছর আগে আয়ারল্যান্ড আওয়ামীলীগ নিয়ে একটি কলাম লিখতে গিয়ে লিখেছিলাম, ‘লেখালেখিটা অনেকটা প্রেমের মতো। পঁচানব্বই পার্সেন্ট প্রেম যেমন ব্যর্থ হয়ে যায় ঠিক তেমনি পঁচানব্বই পার্সেন্ট লেখাও কোনো কাজে আসে না। তবুও সমাজের অন্যায়, অবিচার, অনৈতিকতা, অসংগতি দেখলে লেখকসত্বা নীরব থাকতে পারে না। এঁদের বিবেক জেগে ওঠে, কেঁদে ওঠে, চিৎকার দিয়ে ওঠে। সুতরাং কাজ হোক আর না হোক তবু লেখক তাঁর কথা অকপটে বলে যায়, লিখে যায় মানুষ ও সমাজের স্বার্থে। এমন নিষ্ঠুর-নিরাশা হৃদয়ে ধারণ করেই আমি আমার আজকের লেখাটা উপস্থাপন করছি।

২০১৯ সাল। মাসের নামটি মনে নেই। লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে একটি টিম আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে এসেছিলো দেশটিতে বসবাসরত বাঙালিদেরকে কনস্যুলার সেবা দান করার জন্যে। লিমরিক যেহেতু ভৌগোলিকভাবে দেশটির মাঝখানে অবস্থিত সেহেতু পরবর্তীতে লিমরিকে কনস্যুলার সার্ভিস প্রদানের জন্যে টিমকে অনুরোধ করি। যৌক্তিক প্রস্তাব বিবেচনায় তারা রাজি হোন এবং আগামী তিন মাস পরে যে সার্ভিসটি হবে তা’ লিমরিকেই হবে বলে টিমপ্রধান জনাব মোসাদ্দেক সাহেব জোরালোভাবে বলে নিশ্চিত করে যান। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তাঁর কথা নড়চড় হয়ে গেলো। লিমরিকে হলো না, সেবার হলো কর্কে। ফলে লিমরিকস্থ বাঙালিদের কাছে আমাকে বেশ বিব্রত হতে হলো। ব্যক্তিগতভাবে যেহেতু আমি অসৎ প্রকৃতির নই, আমার কথায় যেহেতু ধারভার থাকে তাই বিষয়টিকে আমি সহজভাবে নিতে পারিনি। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরির পেছনে কার হাত আছে, কি অদৃশ্য কারণে লিমরিকে হলো না তা’ জানা বা বোঝার জন্যে মাননীয় হাইকমিশনার মহোদয়ার শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করি। সেখানেও টালবাহানা। দায়িত্বরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের অতি দায়িত্বশীলতা কিংবা অতি দায়িত্বহীনতার জন্যে প্রায় দু’ সপ্তাহ লেগেছে কেবলমাত্র তাঁর সাথে একটিবার টেলিফোনে কথা বলতে।

অবশেষে, মাননীয় হাইকমিশনার মহোদয়া আমার কথা বেশ মনোযোগ সহকারে শুনলেন। যদিও আমার কথায় রাগ-ক্ষোভ, আবেগ, অভিযোগ-অনুযোগ ছিলো। সবকিছু শুনে ও বুঝে পরিশেষে তিনি যে কথাটি আমাকে বলেছিলেন তা’ এখনো আমার কানে বাজে। তা হলো- “Trust me, I am promising to you that the next consular service will be in Limerick first.” কিন্তু তাঁর “promise” রক্ষা হওয়ার আগেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোভিড আমাদেরকে হানা দেয়। ফলে সবকিছুই স্থবির হয়ে পড়ে। কনস্যুলার সার্ভিসও বন্ধ থাকে।

দুনিয়া স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে কনস্যুলার সার্ভিসও স্বাভাবিকভাবে চলতে শুরু করে। আবারো তারা ডাবলিন, কর্ক, কিলার্নি ও গলওয়েতে তাদের সার্ভিস প্রদান করে। লিমরিক অসহায় কাতর দৃষ্টিতে তা’ কেবল তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। কিন্তু আর কতো অসহায়ত্ব নিয়ে বেঁচে থাকা যায়! তাই লিমরিক আবারো আড়মোড়া দিয়ে ওঠলো। “মাননীয়া”কে তাঁর পুরনো প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে লিমরিকের পক্ষ থেকে আমি কনস্যুলার সার্ভিসে আবেদন জানিয়ে ই-মেইল করি। পর পর দু’টো ইমেইল করা সত্বেও কোনো সাড়া পাচ্ছিলাম না। সবার অজান্তে নিজে যখন কষ্ট পাচ্ছিলাম ঠিক তখন একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে কনস্যুলার মিনিষ্টার জনাব রকিব উদ্দিন আহমদের ফোন পেলাম। তিনি ম্যাডামের বরাত দিয়ে আমাকে জানালেন, ‘ডাবলিনে কনস্যুলার সার্ভিস হবে বলে ইতোমধ্যে তারিখ নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে তাই এবার সেখানেই হচ্ছে। পরবর্তীতে অর্থাৎ জুনে যখন টিম আসবে তখন তারা একদিন গলওয়ে কিংবা কিলার্নি, অন্যদিন লিমরিকে (যেহেতু টিম দু’দিন অবস্থান করে) এ সেবা প্রদান করবেন। আমি আর বাড়াবাড়িতে না গিয়ে তাঁর এ প্রস্তাবেই রাজি হই।

পরবর্তীতে কিছুদিন পর মান্যবর রাষ্ট্রদূত মহোদয়া এক সরকারি সফরে ডাবলিনে এলে সেখানেও তাঁর সঙ্গে দেখা করে সদ্য প্রকাশিত আমার একটি বই উপহার দিই এবং লিমরিকের বিষয়টি উত্থাপন করি। প্রথমে তিনি কিলার্নির কথা বললেও পরে তাকে ২০১৯ সালের প্রমিজের কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি লিমরিকের ব্যাপারে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। এর দু’দিন পর কনস্যুলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে কনস্যুলার টিমের সাথে মি. রকিব উদ্দিনও ডাবলিনে আসেন। দুই-আড়াই ঘন্টা ড্রাইভ করে আমি আবারো সেখানে যাই। তাঁর সাথে দেখা করি। খোলামেলা কথা বলি এবং পরবর্তী সার্ভিসটি লিমরিকে হবে বলে বেশ নিশ্চিতভাবেই তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন। বাংলাদেশ কমিউনিটি অফ ডাবলিন (বিসিডি)-এর সভাপতি জনাব মোহাম্মাদ মোস্তফা, ডাবলিন আওয়ামী লীগ-এর সভাপতি অনুজপ্রতিম ফিরোজ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অলক সরকারসহ অনেকেই বিষয়টি অবগত হোন। এমনকি, প্রয়োজনে তারা লিমরিকে গিয়ে সহযোগিতা করার উদার মনোভাবও পোষণ করেন। তাদের এমন উদার মনোভাব ও মিনিস্টার সাহেবের ইতিবাচক আশ্বাস আমাকে বেশ আশ্বস্ত করে। মনে আসে প্রশান্তি। এ প্রশান্তির ঢেঁকুর গিলতে গিলতে খোশমেজাজে বাড়ি ফিরে আসি।

লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমকে নিজের লেখা বই উপহার দিচ্ছেন সাজেদুল চৌধুরী রুবেল

এটা সম্ভবত গত ফেব্রুয়ারি বা মার্চের কথা। সময় গড়িয়ে জুন চলে এলো। হাইকমিশন থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। অগত্যা আমাকেই আবারো তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হলো। লিমরিকে কখন, কিভাবে আসবেন জানতে চাওয়া হলে জনাব রকিব উদ্দীন আমাকে নিরাশ করলেন। এবার নাকি কিলার্নির পালা তাই তারা ওখানেই যাবেন এবং পরের বার একদিনের জন্য লিমরিকে আসবেন বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আমি তাকে পুরনো সব কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাই। কিন্তু, দুঃখজনকভাবে তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। আমাদের দাবি, আবেগ, অনুভূতি, অনুরোধ, ন্যায্যতাকে পায়ে পিষে লিমরিকের বুকের ওপর দিয়ে কিলার্নিতে গিয়ে কনস্যুলার মহোৎসব সম্পন্ন করেছেন। ধন্যবাদ তাদেরকে।

আমার বক্তব্য হচ্ছে, মি. রকির উদ্দিন যে “পালা”র দোহাই দিয়ে কিলার্নি গেলেন সেই “পালা”র কথা টানলে তো সবার আগে লিমরিকের “পালা” চলে আসে। কারণ, ২০১৯ সালেই হাইকমিশনের হেড অফ দ্য সুপ্রিম কর্তৃক নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছিলো এ মর্মে যে, ‘পরবর্তীতে যদি কোথাও কনস্যুলার সেবা দেয়া হয় তা’ হবে সর্বপ্রথম লিমরিকে’। অথচ, “সর্বপ্রথম” তো দূরের কথা, দ্বিতীয়-তৃতীয় দফায় ডাবলিন, কিলার্নিসহ বিভিন্ন কাউন্টিতে কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া সত্বেও লিমরিকের “টার্ম” এখনো আসেনি! এ থেকে আমরা কি বুঝতে বাধ্য হতে পারি? হয়তো মান্যবর রাষ্ট্রদূত আমাকে কথার কথা ‘আশ্বাসবাণী’ শুনিয়েছিলেন? ওয়াদার ‘মর্যাদা রক্ষা করা’ মানবজীবনের নীতি-নৈতিকতার জন্যে যে কতো বড়ো অর্জন, তা’ তিনি বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। নতুবা, ভুক্তভোগী লোকজন যে বলে, ‘ডাল মে কুঁচ কালা হে’!

লিমরিকবাসীর প্রতি বাংলাদেশ হাইকমিশনের কেনো এতো অনীহা, উদাসীনতা, বৈষম্য ও বিমাতাসুলভ আচরণ তা’ আমার বোধগম্য নয়। লিমরিকস্থ বাঙালিরা কি বাংলাদেশ সরকারকে সঠিকভাবে ট্যাক্স দিচ্ছে না, কনস্যুলার সার্ভিসের ফি পরিশোধ করে না? নাকি, দেশের ‘হৃদপিণ্ড’ রেমিট্যান্সে কোন অবদান রাখছে না? যদি তা’ না হবে তবে কেনো লিমরিকের প্রতি এমন বৈষম্য? লিমরিকে হাইকমিশনের কেনো বারবার অনাস্থা মনোভাব? কিসে এতো জড়তা?

লিমরিকে কনস্যুলার সার্ভিস পরিচালনার জন্যে আমি আর বাংলাদেশ হাইকমিশনকে বলবো না। ভবিষ্যতে তারা আসবে কি আসবে না সেটা তাদের একান্তই নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে তারা কিসের ভিত্তিতে বা কোন মাপকাঠিতে একেকটি কাউন্টিতে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে তা’ আমার বড্ড জানতে ইচ্ছে করছে। ন্যূনতম ভদ্রতার প্রশ্নে কি একথা বলা যায় না, কমিশন অন্তত; একবার হলেও বঞ্চিত লিমরিকবাসীর পক্ষে আমাকে ‘হ্যালো’ করে তাদের যুক্তিসংগত কারণ সম্পর্কে জানাতে পারতো?

মাপকাঠি যদি আওয়ামী লীগ অনুসারী বা আওয়ামী লীগার হওয়া দরকার হয়ে থাকে তবে বলতে হয়, ছাত্রজীবন থেকে এখন পর্যন্ত আমি কে? কোন ঘরানার আমি? জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শিক চেতনা ও তাঁর যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের ন্যায্যতার পক্ষে কি আমার মেধা, নিরলস শ্রম দেয়ার পরও আজো আমার কলমটি সচল রাখিনি?

তবে হাতেগোনা দলবাজ, দলকানা, তেলবাজ, স্বার্থান্বেষী ধান্দবাজ আওয়ামী লীগারদের মতো আমি নই। আমি শুদ্ধসত্বার জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আমি মেধা-মননে আওয়ামী লীগ ও দেশের প্রকৃত হিতাকাঙ্খী, শুভাকাঙ্খী ও সেবক।

স্বাধীনতা, সচেতনতা অ প্রবাসীদের অবদান নিয়ে সর্বদা সোচ্চার সাজেদুল চৌধুরী রুবেল।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুসংবাদ শুনে আমার বাবার হাত থেকে সিগারেট পড়ে গিয়েছিলো। আমি সেই বাবার সন্তান। আমি নিজেও স্ত্রীর ঘুম নষ্ট করে বলতে গেলে প্রতি রাতেই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি শুনি মনোযোগে। তবে কোনো কমিটিতে, উপ-কমিটিতে আমার নাম থাকা বা রাখার চিন্তা করিনি কোনোদিন। পদ বা কমিটিবাজিতে আমার কোনো বিশ্বাস নেই। আমার মতো এমন আওয়ামীভক্ত লিমরিক কাউন্টিতে আরো অনেকেই আছেন, যাঁদের আশা-আকাংখা, আবেগ-অনুভূতিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সিদ্ধান্তে আঘাত লেগেছে বেশ জোরেশোরে! তাঁরাও কষ্ট পেয়েছেন ভীষণ।

সত্যি কথা বলতে কি, কমিশনের অপ্রত্যাশিত এমন সিদ্ধান্তে লিমরিকের বাঙালিরা বঞ্চিত হয়েছেন আবারো, যা’ কাম্য ছিলো না কারো। আশা করি, লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের নিশ্চয়ই শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং লিমরিকের বঞ্চিত বাঙালিরা তাদের ন্যায্য দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করবে।

আমরা এও আশা করি, লন্ডনস্থ হাইকমিশনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার বারবার ‘আশ্বস্তকৃত’ কনস্যুলার সার্ভিস প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তাঁর উদারতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পেয়ে লিমরিকের বাঙালিরা গর্বিত ও কৃতার্থ হবে।

 

লেখক- কবি ও প্রাবন্ধিক
উপদেষ্টা, (এন, টি, এ) আইরিশ পরিবহন মন্ত্রনালয়।
প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা, আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ।
চেন্নাই, ইন্ডিয়া
২৯ জুন ২০২৪

Facebook Comments Box