বাংলাদেশের একান্নতম স্বাধীনতা দিবস : প্রত্যাশা , প্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি

0
607

২০২১ সালে আমরা মহান স্বাধীনতা দিবসের গৌরবের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেছি । এমন কি ২০২২ সালে এসেও সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপনের রেশ এখনও চলমান । পাশাপাশি গত একান্ন বছরে বাংলাদেশের উন্নতি , অগ্রগতি , অর্জন , সাফল্য , ব্যর্থতা , প্রাপ্তি , অপ্রাপ্তি নিয়েও এর পক্ষে , বিপক্ষে আলোচনার শেষ নেই ।

গত একান্ন বছরে বাংলাদেশ অনেক প্রতিকূলতা , প্রতিবন্ধকতা , রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা করে , দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলোর মধ্যে নিজেদের কে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে ।

প্রাপ্তির বিচারে দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি , জাতীয় আয় বৃদ্ধি , অবকাঠামো উন্নয়ন , কর্মসংস্থান , শিক্ষার হার বৃদ্ধি , মানব উন্নয়ন সহ বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ যে অনেক খানি উন্নতি করেছে এতে কোন সন্দেহ নেই । মোটাদাগে আমরা বলতে পারি , পদ্মা সেতুর মতো মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়ন , মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট , মেট্রো রেল , শতভাগ বিদ্যুতায়ন সহ বিভিন্ন দৃশ্যমান প্রকল্প আমাদের উন্নতি বা অগ্রগতির পরিচয় বহন করে ।

কিন্তু প্রাপ্তির পাশাপাশি আমাদের অপ্রাপ্তির তালিকাও কোন অংশে কম নয় । পরিসংখ্যানিক ভাবে মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পেলেও , প্রকৃত চিত্র হচ্ছে দেশে ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে আয়ের বিরাট বৈষম্য রয়েছে । যা দেশের সমগ্র জনসাধারণের মাথা পিছু আয়ের পরিচয় বহন করে না । মূল কথা হচ্ছে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি অতি ক্ষুদ্রতম অংশ বিশাল সম্পদের মালিক । অর্থাৎ একটি জনকল্যাণ মূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অর্থনীতির যে সুষম বন্টন দরকার , তা আমাদের দেশে অনুপস্থিত ।

একান্ন বছর একটি দেশের জন্য কম সময় নয় । বয়সের বিবেচনায় বড়ো মনে হলেও , রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমরা এখনও পরিনত হতে পারিনি । গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ , মত প্রকাশের স্বাধীনতা , রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ , বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীলের বিষয় গুলো আমরা এখনও দেখতে পাই না ।

একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের কাজ হচ্ছে দেশের সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবা গুলো সহজ লভ্য করা । কিন্তু আমি মনে করি আমাদের অন্যতম একটি হতাশার জায়গা হচ্ছে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে অধিকাংশ সময় সেবা পায় না । সেবার জন্য জনগণকে অনেক সময় দূর্নীতির আশ্রয় , রাজনৈতিক তদবির বা উপর মহলের সুপারিশের প্রয়োজন হয় । দূর্নীতি আমাদের দেশে এখনও ক্যন্সারের মতো । আমি মনে করি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে দূর্নীতি । স্বাধীনতার একান্ন বছর পরেও আমরা একটি দূর্নীতি মুক্ত দেশ গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছি ।

জনগণের ভোটাধিকার বা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা আজও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয় নি । জাতির জন্য এটি সবচেয়ে অপ্রাপ্তির জায়গা । বিগত দুটি নির্বাচন অনেকটা ভোটার বিহীন ছিল । ফলে দীর্ঘদিন একই দল রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে । যে কারনে দেশে রাজনৈতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরী হয়েছে । বিরোধী দল গুলো দিন দিন দূর্বল বা কোনঠাসা হয়ে পড়ছে । এমতাবস্থায় সরকারী দল তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিতারও প্রয়োজন মনে করে না ।

২০২২ সালে এসেও আমরা একটি রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি , এই সংকট উত্তরণের উপায় কি হতে পারে তা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ ভালো বলতে পারবেন । তবে সাময়িক ভাবে সংকট সমাধানে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন , নির্বাচন কমিশন যদি সকল দলের অংশগ্রহনের মাধ্যমে অবাধ , সুষ্ঠু এবং জনগণের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সফল নির্বাচন উপহার দিতে পারে তাহলে হয়তো বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসবে ।

মহান স্বাধীনতার একান্নতম দিবসে এসেও প্রত্যাশা , প্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে । কিন্তু আমরা সবাই দেশ কে ভালোবাসি , আমাদের সবার লক্ষ্য এক , তা হলো দেশের কল্যাণ । প্রত্যাশা রাখি হয়তো একদিন প্রিয় বাংলাদেশ , সোনার বাংলা হবে ।

কবির আহমদ
সাস্টিয়ান

Facebook Comments Box