বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘কিশোয়ার’ অস্ট্রেলিয়ান মাস্টারশেফের চূড়ান্ত পর্বে

0
472
মাস্টারশেফে কিশোয়ার চৌধুরী

কাঁচা আম আর সামুদ্রিক মাছ দিয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে রান্না করে প্রতিযোগিতায় সপ্তমস্থানে জায়গা করে নিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী কিশোয়ার। রান্নাবিষয়ক জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার চূড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোয়ার চৌধুরী।

অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও নিজের বাংলাদেশি সত্ত্বা ও সংস্কৃতির শেকড়কে গভীরভাবে ধারণ করেন কিশোয়ার। অনুষ্ঠানটিতে বাংলাদেশি খাবারের প্রতি তার ভালবাসা ও আবেগের কথা জানান তিনি। ছোটবেলা থেকেই রান্নায় আগ্রহী কিশোয়ার মূলত মা-বাবার সাহায্যেই বাংলাদেশি খাবার রান্না ও এর স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন।

তিনি জানান, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশি খাবার ও স্বাদকে তুলে ধরতে চান। তিনি বাংলাদেশের স্থানীয় খাবারগুলোকে অস্ট্রেলিয়ার খাবারের মানচিত্রে একটি উল্লেখযোগ্য জায়গায় পৌঁছে দিতে চান। কিশোয়ারের বিশ্বাস, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি খাবারগুলোকে তেমন একটা উপস্থাপন করা হয় না। এগুলো আরও মনোযোগ ও প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে।

বাংলাদেশি খাবারের স্বাদ তুলে ধরতে নিজের সৃজনশীলতা ও কৌশল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কিশোয়ার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আমাদের ঐতিহ্যকে বেশ সফলভাবেই তুলে ধরছেন। ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি। এখন পর্যন্ত বিচারকরা তার রান্নার অসামান্য প্রশংসা করেছেন।

তার রান্না খেয়ে রীতিমত মুগ্ধ বিচারক জক জনফ্রিলো বলেন, এখনও পর্যন্ত এ বছরের অন্যতম সেরা খাবার।

Kishwar Chowdhury

কিশোয়ারের স্বপ্ন, ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার ও এর স্বাদ নিয়ে বই লেখা। এভাবেই তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের খাবার ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে চান।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি মাস্টারশেফ  এর আয়োজন করে থাকে। তবে মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, অস্ট্রেলিয়াতেও এটি সর্বাধিক প্রচারিত অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পদগুলো নিয়ে শীঘ্রই আন্তর্জাতিক এই প্লাটফর্মে তুলে ধরবেন কিশোয়ার, এমনটি আশা অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত অন্যান্য বাংলাদেশিদের।

Facebook Comments Box