জিন্নুরাইন জায়গীরদার – ব্যালটের জবাবে বিশ্বাসী যিনি

0
199

আয়ারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় এবং কেন্দ্রীয় সংগঠন হচ্ছে আবাই (অল বাংলাদেশী এসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড)। আবাই এর সর্বসাকুল্যে নির্বাচন হয়েছে দুইবার এবং দুইবারই জয়ের বরমাল্য বরণ করার একমাত্র সৌভাগ্যবান ব্যক্তি হচ্ছে জনাব ডাঃ জিন্নুরাইন জায়গীরদার।

সম্প্রতি হয়ে যাওয়া আবাই নির্বাচন ২০২২ এর জয়ের স্বাধ গ্রহণ করা জনাব জিন্নুরাইনের জন্য সহজসাধ্য ছিলনা। অনেক কণ্টকাকীর্ণ পথ মাড়িয়েই তাঁকে বিজয়ের সীমারেখা অতিক্রম করতে হয়েছে।

নির্বাচনের আগে পরিণত হয়েছেলিনে বুলস আইয়ে। ডার্টের ফলার মত চতুর্দিক হতে সমালোচার তীর ক্রমাগত নিক্ষিপ্ত হতে থাকল তাঁকে লক্ষ্য করে। কিন্তু তিনি নিক্ষিপ ফলা বিপক্ষের দিকে উৎক্ষেপণ না করে বরঞ্চ নির্লিপ্তই ছিলেন। কিন্তু জবাব ঠিকই দিয়েছেন, তবে তা নিজের মুখে নয়, জনগণের মুখ দিয়ে। এটাই মনে হয় একজন আদর্শ নেতার বৈশিষ্ট্য।

বহু প্রতীক্ষিত জয়ের বার্তা পেয়েই ঘোষণা করলেন নিজেকে গুটিয়ে নেবার। জানিয়েছেন আর এই পথ বাড়াবেন না, এটাই তাঁর শেষ নির্বাচন। জয়ের স্বাধ নিয়েই হয়ত বিদায় নিতে চেয়েছেন অথবা আর চাইছেন না বিতর্কের কাদা নিজের গায়ে মাখাতে।

অবশ্য আর কত! জীবনে কম পথ তো আর পাড়ি দিলেন না। এক জীবনে কত কি ই বা আর করা সম্ভব, এক জীবনে কত খ্যাতিই বা দরকার! চিকিৎসা বিদ্যা শেষ করে ডাক্তার হলেন। এতেই থেমে থাকেন নি, উত্তিন্ন হন বিসিএস পরীক্ষায়। কিছু সময় লেকচারার হিসেবেও ছিলেন। অর্জন করেন ডক্টর অব এনেস্থেসিয়া, এফসিপিএস ও এমডি ডিগ্রি। একই সাথে এত অর্জন খুব কম মানুষই ঝুলিতে ভরতে পারেন।

নিজের অভিজ্ঞতার ঝুড়িকে আরো সমৃদ্ধ করতে পাড়ি জমান দেশ থেকে বিদেশের মাটিতে। ১৯৯৭ সালে প্রথম পাড়ি জমান সৌদি আরবে আল রাস জেনারেল হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসেবে। সৌদি আরব থেকে ২০০৩ সালে পাড়ি জমান আয়ারল্যান্ডে এবং শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডেই থিতু হন। আয়ারল্যান্ডে এসেও কলেজ এন্ড এনেস্থেসিওলজিস্ট আয়ারল্যান্ড থেকে এফ. সি. এ. এবং সি & এস ডিগ্রি অর্জন করে নিজের যোগ্যতাকে সমৃদ্ধ করেন। শুধু তাই নয়, হেপাটোবিলিয়ারি এবং লিভার ট্রান্সপ্যান্ট এর উপর ফেলোশিপ অর্জন করেন।

ডাক্তারি পেশার পাশাপাশি উনার আরেক পরিচয়ও রয়েছে। তিনি একজন সুযোগ্য লেখকও বটে। কবি বললেও ভুল হবে না। উনার লেখা বেশ কিছু কবিতার বই রয়েছে। যিনি কথা বলেন কবিতার ভাষায়, ভাব প্রকাশ করেন ছন্দে ছন্দে।

একুশে মেলা ২০২২ এ প্রকাশিত হয় জিন্নুরাইন জায়গীরদারের দুটি বই

এত প্রাপ্তি যার, তিনি কেন রাজনীতিতে? এ প্রশ্ন হয়ত অনেকের। যেসব প্রাপ্তি আলোচনা করা হল, তা হয়ত নিজেকে সমৃদ্ধ করতে, কিন্তু কমিউনিটিকে ও কমিউনিটির মানুষকে সমৃদ্ধ করতে এবং নিজের সেবাকে বৃহদাকারে ছড়িয়ে দিতেই হয়ত জনাব জিন্নুরাইনের এই পথে গমন। কমিউনিটির সেবাকে ঠিক রাজনীতি বলা যায়না। কমিউনিটির মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে কমিউনিটিকে নেতৃত্ব দিতেই তাঁর আগমন এবং মানুষ হয়ত আপাদমস্তক সমৃদ্ধ একজনকেই নেতৃত্বে চেয়েছে বিধায় হয়ত তিনি আবারও দ্বিতীয়বারের মত নেতৃত্বে।

নিজের উপর যথেষ্ট পরিমাণ আত্মবিশ্বাস না থাকলে অনেক প্রতিকূল অবস্থায়ও দ্বিতীয়বারের মত নির্বাচনের পথ মাড়াতেন না। ডাক্তার সাহেব বাগ্নিতায় এবং লেখায় যথেষ্ট পারদর্শী। চাইলে সব সমালোচনার উত্তর জিভ দিয়ে অথবা কলমের মাধ্যমে দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে দিয়েছেন ব্যালটের মাধ্যমে। এতেই একজন নেতার বিজ্ঞতার পরিচয় মিলে।

স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে ডাঃ জিন্নুরাইন জায়গীরদার

আয়ারল্যান্ডবাসী এখন আশা করে একজন বিজ্ঞ নেতা থেকে যোগ্য নেতৃত্ব। মানুষ যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে জনাব জিন্নুরাইনকে সভাপতি পদে অলংকৃত করেছে, সে বিশ্বাস ও আস্থা যাতে ফিরিয়ে আনতে পারেন সে আশাই আয়ারল্যান্ডবাসী করে।

সব সমালোচনার জবাব যেমন ব্যলটের মাধ্যমে দিয়েছেন, নিজের কাজের মাধ্যমেও তা ফুটিয়ে তুলবেন।

অভিনন্দন হে নন্দিত নেতা। শুভ কামনা রইল নতুন পথচলার। নতুন সূর্য উদিত হোক আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে। তৈরি হোক সম্প্রীতির মেলবন্ধন।

আইরিশ বাংলা টাইমস ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জিন্নুরাইন জাইগীরদার
Facebook Comments Box