এবারও কি ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপীয় এবং ল্যাটিন আমেরিকান দল?

0
132

নকআউট পর্বের কোন দলকেই ছোট বলা যায় না। সব দলই ভালো খেলে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই রাউন্ড ১৬ তে এসেছে। তারপরেও কিছু দলকে হট ফেভোরিট হিসেবে গণ্য করা হয়। যারা অতীতে বিশ্বকাপ নেয়ার রেকর্ড রয়েছে অথবা তাদের দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। এমন কয়েকটি দল নিয়েই আজকের চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ।

ইতিমধ্যে রাউন্ড ১৬ তে ১৬ দলের মধ্যে গত দুই দিনে ৮ দলের খেলা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪ দল কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট কাটতে সমর্থ হয়েছে। ৪ দলই কিন্তু সবার হিসেবে রাখার দল।

হট ফেভোরিটের মধ্যে আর্জেন্টিনা, নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স পুঁছেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস এবং ফ্রান্স মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের। আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডসের খেলার একটু ভবিষ্যৎ বর্ণনা করা গেলেও ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের খেলায় উভয় দলেরই রয়েছে ৫০/৫০ সম্ভাবনা। তবে বিগত খেলার পারফরমেন্স বিশ্লেষণ করলে ও ৫ গোল করা ব্যাপের ফর্ম বিবেচনা করলে ফ্রান্সকেই প্রতিযোগিতার দৌড়ে হয়ত একটু এগিয়ে রাখা যায়।

অপরদিকে নকআউট পর্বের আরো ৮ টি দলের ৪ টি খেলা বাকি। তন্মদ্ধে হট ফেভোরিটদের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, স্পেন এবং পর্তুগাল। আজকের খেলায় ব্রাজিল যদি জিতে তাহলে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে জাপান ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে যে দল জিতবে তাদের সাথে। অন্যদিকে পর্তুগাল ও স্পেন যদি জিততে পারে তাহলে দুই দল মুখোমুখি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে। কোয়ার্টার ফাইনালে যোগ্যতার বিচারে বিবেচনা সাপেক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাবনা বেশি সেমিফাইনালে যাওয়ার। অন্যদিকে স্পেন ও পর্তুগাল দুই দলই হট ফেভরিট হলেও স্পেনের সম্ভাবনাই বেশি সেমিফাইনালে খেলার।

সেমিফাইনালঃ

উপরোক্ত টেবিলের বাম পাশে যদি তাকাই তাহলে একদিকে আর্জেন্টিনা এবং অন্যদিকে ব্রাজিলের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আর এই দুই দলের মধ্যকার খেলায় কে ফাইনালে যাবে তার পুর্ভাভাস দেয়া খুবই দূরহ ব্যাপার। দুই দলের মধ্যে যে কেউই ফাইনালে খেলতে পারে।

এবং টেবিলের ডানে যদি তাকাই তাহলে ফ্রান্স আর ইংল্যান্ডের মধ্যে কে সেমিতে যাবে তাও নিশ্চিতভাবে বলা যায়না। তবে ধরে নেই ফ্রান্সের সম্ভাবনাই এখানে বেশি। অন্যদিকে পর্তুগাল এবং স্পেন কোয়ার্টার ফাইনাল খেললে স্পেনের সম্ভাবনা বেশি বলে ধরা যেতে পারে। সে হিসবে স্পেন এবং ফ্রান্স এর সেমিফাইনাল হয়তবা প্রত্যাশিত।

স্পেন এবং ফ্রান্স যদি সেমিতে লড়ে তাহলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতই এখানেও ফলাফলের আগাম সংকেত পাওয়ার নিশ্চয়তা একবারে শূন্যের কোটায় বলা চলে। কারণ দুই দলেরই বিশ্বকাপ নেবার জন্য সব রকম যোগ্যতাই রয়েছে।

তাহলে কি বলতে পারি আমরা ইউরোপ এবং সাউথ আমেরিকার ফাইনাল? হা বলাই যায়। কারণ, একদিকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যে কোন এক সাউথ আমেরিকান দল এবং ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে যে কোন ইউরোপীয় দল ফাইনালে খেলবে। যদি পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডকেও বিবেচনায় আনি তারপরেও আমরা ইউরোপ ও ল্যাটিন ফাইনাল আমাদের চোখে দৃশ্যমান।

সম্ভাবনাঃ
উপরোক্ত সম্ভাবনা কেবলমাত্র পূর্বের পরিসংখ্যান ও নিদৃস্ট দলের খেলোয়াড়দের যোগ্যতার বিবেচনায় করা। কিন্তু তার মানে এই না যে, অন্যদলগুলা কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালে খেলার যোগ্যতা রাখে না। তন্মদ্ধে ক্রোয়েশিয়া গতবারের ফাইনালে খেলা দল। তারাও জাপানকে হারিয়ে সেমিফাইনাল এবং ব্রাজিলেকে হারিয়ে ফাইনালে আসার যোগ্যতা রাখে। তাহলেও ইউরোপ এবং ল্যাটিন ফাইনালের দেখা মিলবে।

অন্যদিকে জাপান ও নেদারল্যান্ড তুখোড় খেলেছে গ্রুপ পর্যায়ে। সুইজারল্যান্ডও আরও দুই এক ধাপ এগুনোর সম্ভাবনা রাখে। দক্ষিণ কোরিয়া ও মরক্কোও ঘটাতে পারে যেকোন অগঠন।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে বিশ্বকাপ কি এবারও ইউরোপে থাকতেছে নাকি আবার ফিরে যাবে ফুটবলের তীর্থস্থান ল্যাটিন আমেরিকায়? সব সময়ের চির প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কে জয়ী হবে মর্যাদার লড়াইয়ে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন বিশ্ববাসী।

Facebook Comments Box