আয়ারল্যান্ডে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা ও ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

আয়ারল্যান্ডে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার বিস্তারিত জানতে ও আবেদনের প্রক্রিয়া বুঝতে এই আর্টিকেলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে

0
1058

আয়ারল্যান্ডে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকেই গুঞ্জন জোরালোভাবে চোখে পড়তেছে। ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বিভিন্ন মতামত আসতেছে। যা অনেককেই দ্বিধা ও চিন্তার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।

অনেক মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বিষয়ে যেভাবে রং ছড়াচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে আয়ারল্যান্ডে ওয়ার্ক পারমিট নতুন কিছু। এবং অনেক মিডিয়া ওয়ার্ক পারমিট বিষয়ে মিসলিডিং তথ্য প্রকাশ করতেছে যা অনেকাংশে সত্য নয়। এর বিপরীতে অনেকে আবার ওয়ার্ক পারমিট এর সত্যতাকে অস্বীকার করে অন্য পক্ষকে ঢালাওভাবে দোষারপ করতেছে, তাও সর্বাগ্রে সঠিক নয়। ওয়ার্ক পারমিট ভিসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাউকে যদি কর্মক্ষম করা যায় তাতে তো ক্ষতির কারণ নেই। সবাই যে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার অপব্যহার করতেছে তাও কিন্তু নয়।

মূল কথা হচ্ছে, ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ব্যাবস্থা অনেক আগে থেকেই ছিল। কিন্তু এই ভিসায় আসার সংখ্যা বাংলাদেশ থেকে নিতান্তই সামান্য। এর অনেক কারণই থাকতে পারে, যেমন, উপযুক্ত তথ্যের অভাব, ভিসা ক্যাটাগরি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারার ব্যার্থতা, ভিসা ইলিজিবিটির জন্য সঠিক দক্ষতা বা কোয়ালিফিকেশনের অভাব, আইরিশ কোম্পানি থেকে জব এর অফার না পাওয়া ও সর্বশেষ জব এর অফার পাওয়ার পরও ভিসা রিফিউজ হওয়া।

এমন অনেক দেখেছি যে, আইরিশ কোম্পানি থেকে জব এর অফার পাওয়া এবং ডিপার্টমেন্ট অফ এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ড থেকে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু হবার পরেও এম্বেসি থেকে রিফিউজ হতে। এই রিফিউজ হওয়ার পরিমাণ বাংলাদেশ থেকে অধিক। হয়ত আইরিশ সরকার এই ভিসা রিফিউজের পরিমাণ কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করারকেই আইরিশ সরকার ওয়ার্ক পারমিট ভিসার কর্মী আসার বিষয়টি চাউর হয়ে যায়।

আয়ারল্যান্ডে ২০২৩ সালে আজ পর্যন্ত ২৩,০০০ ভিসা ইস্যু হয় এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ভিসা পেয়েছে মাত্র ১০২ জন, যা মোট ভিসার ০.০০৪%। আর ২০২২ সালে ৪০,০০০ ভিসা ইস্যুর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ভিসা পেয়েচ্ছে মাত্র ১৫৭ জন, তাও ছিল মোট ভিসার ০.০০৪%। ০.০০৪% ভিসা হিসেবে কিছুই না। 

কিন্তু আমরা যদি ভিসা ইস্যুর স্ট্যাটিসটিক্স দেখি তাহলে দেখতে পাব ২০২২ (40,000 visa issued) এর তুলনায় ২০২৩ (23,00 visa issued till today) এর ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর পরিমাণ অনেক কমে গেছে। এর অন্যতম কারণ, কোভিড পরবর্তী সময়ে আয়ারল্যান্ডে বড় ধরনের এমপ্লয়মেন্ট ক্রাইসিস দেখা দেয় ও ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে আয়ারল্যান্ডে জব মার্কেট বৃদ্ধি পায়। এখন জব মার্কেট অনেকটা স্ট্যাবল হওয়াতে বাহির থেকে কাজের ভিসায় কর্মী আসা কমে গিয়েছে।

এই রিপোর্টে ওয়ার্ক পারমিট বিষয়ক আদ্যোপান্ত গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা হয়ত ওয়ার্ক পারমিট এর বিষয়ে একটা প্রাথমিক ধারণা তৈরি করতে সহায়তা করবে। এই রিপোর্টে ওয়ার্ক পারমিটের ধরন এবং সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এবং বিশদ তত্ত্বের জন্য তত্ত্বসম্বন্ধীয় লিংক প্রদান করা হয়েছে।

ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ধাপ সমূহঃ

প্রথম ধাপঃ আবেদনকারীর আবেদন করা কোম্পানি থেকে জব অফার পাওয়া
দ্বিতীয় ধাপঃ সম্ভাব্য কোম্পানি কতৃক ডিপার্টমেন্ট অফ এন্টারপ্রাইজ এ ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর জন্য আবেদন
তৃতীয় ধাপঃ ডিপার্টমেন্ট অফ এন্টারপ্রাইজ কতৃক ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু
চতুর্থ ধাপঃ ভিসা আবেদন এবং এম্বেসি কতৃক ভিসা ইস্যু

ওয়ার্ক পারমিট/ভিসার ক্যাটাগরি বা ধরনঃ

আইরিশ কর্মসংস্থান ডিপার্টমেন্ট Department of Enterprise, Trade and Employment (DETE) ৯ ধরন বা ক্যাটাগরির ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করে থাকে। আপনাদের স্বচ্ছ ধারনার জন্য এই ৯ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট এর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য লিংক প্রদান করা হয়েছে, যাতে ক্লিক করলে ওই সম্বন্ধীয় পূর্নাঙ্গ তথ্য পেতে পারেন।

নিম্নোক্ত ওয়ার্ক বা এমপ্লয়মেন্ট পারমিট ক্যাটাগরির মধ্যে প্রথম ৭ টি ক্যাটাগরি হচ্ছে আয়ারল্যান্ডের বাহিরে এবং শেষ ২ টি ক্যাটাগরি হচ্ছে আয়ারল্যান্ডের ভেতর থেকে আবেদনের জন্য। ক্রিটিক্যাল স্কিল ও জেনারেল ওয়ার্ক পারমিটে কোম্পানি স্পন্সর অনুযায়ী স্ট্যাম্প ওয়ার্ক পারমিটে পরিবর্তন করা যায়। যেমন স্টুডেন্ট ভিসা থেকে ওয়ার্ক পারমিট।

#১) ক্রিটিক্যাল স্কিল ওয়ার্ক পারমিট

ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা পাওয়ার জন্য ক্রিটিক্যাল স্কিল হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কমন মাধ্যম। যাদের ক্রিটিক্যাল স্কিল রয়েছে তাদের জন্য জবের অফার পাওয়া থেকে শুরু করে ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়না। যেহেতু আয়ারল্যান্ডে ক্রিটিক্যাল স্কিল এর কর্মীর ঘাটতি রয়েছে এবং এ স্কিল অন্যান্য পেশার থেকে স্পেশালাইজড সুতরাং এই স্কিমে ভিসা পাওয়াটা অনেকটা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অন্য যে কয় ধরনের ওয়ার্ক পারমিট স্কিম রয়েছে তন্মদ্ধে ক্রিটিক্যাল স্কিলেই ভিসা পাওয়ার পরিমাণ বেশি থাকে।

তারপরেও ক্রিটিক্যাল স্কিল এর ক্রাইটেরিয়া পূরণ করার পরেও কেন যেন বাংলাদেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিট ও জব অফার পাওয়া খুব সহজসাধ্য হয়না। যেমন আইটি ও চার্টার্ড অ্যাাকাউন্ট্যান্ট ক্রিটিক্যাল স্কিল এর মধ্যে পড়লেও আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এসব সেক্টরে যে পরিমাণ কর্মী আসে, বাংলাদেশ থেকে তার তুলনায় অনেক কম আসতে দেখা যায়।

Irish Expert

যারা ক্রিটিক্যাল স্কিল এর ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে পড়েন এবং আয়ারল্যান্ডে চাকুরী নিয়ে আসতে চান তারা পুর্নাঙ্গ তথ্য পেতে এখানে ক্লিক করুন ক্রিটিক্যাল স্কিল নির্দেশিকা

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইসিটি প্রফেশনাল, চার্টার্ড অ্যাাকাউন্ট্যান্ট, রিসার্সার ইত্যাদি পেশা ক্রিটিক্যাল স্কিল এর মধ্যে পড়ে। ক্রিটিক্যাল স্কিলের ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে পড়ে তার পূর্নাঙ্গ লিস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন ক্রিটিক্যাল স্কিল ইলিজিবল লিস্ট

এই লিস্টের বাহিরের কোন কোয়ালিফিকেশন বা যোগ্যতা ক্রিটিক্যাল স্কিলের মধ্যে পড়ে না। সেক্ষেত্রে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য অন্য ক্যাটাগরি দেখতে পারেন।

#২) জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট

ক্রিটিক্যাল স্কিল ওয়ার্ক পারমিটের জব ক্যাটাগরি ছাড়া বাকি যে স্কিমে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করে তার মধ্যে আরেকটি কমন মাধ্যম হচ্ছে জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট। জেনারেল ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য নয় এমন পেশা বা যোগ্যতার তালিকা DETE প্রদান করে। ক্রিটিক্যাল স্কিল ওয়ার্ক পারমিটের জব ক্যাটাগরি ছাড়া এবং জেনারেল ওয়ার্ক পারমিটের অযোগ্য তালিকার বাহিরের পেশাই কেবলমাত্র জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট এর জন্য আবেদন যোগ্য। সে কারণে জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট এর জন্য যোগ্য পেশা সনাক্ত করা খুব একটা সহজ নয়।

জেনারেল ওয়ার্ক পারমিটে ভিসা পাওয়াটা একটু কষ্টসাধ্য। কারণ এতে জেনারেল ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য এমন পজিশন খুব কমই আছে যাতে সহজে ভিসা পাওয়া যায়। আবার জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট ক্রিটিক্যাল স্কিলের মত অতটা অপ্রতুল নয়, তাই কোম্পানি চাইলেই লোকাল অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মী সহজেই নিয়োগ দিতে পারে। তাই জেনারেল স্কিমের কর্মী নিয়োগে কোম্পানিগুলো ওয়ার্ক পারমিটের ঝামেলায় যেতে চায় না। এরপর লেবার মার্কেট নিডস টেস্টেও (Labour Market Needs Test) এই ক্যাটাগরি দুর্বল ভূমিকা পালন করে বিধায় এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করতে অনেকটা অপারগ।

Labour Market Needs Test মানে হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করার আগে যাচাই করে দেখা যে, নিদৃস্ট পদের জন্য আইরিশ অথবা EEA ন্যাশনাল কর্মী যথেষ্ট রয়েছে কিনা। তা না হলে, আয়ারল্যান্ড ও EEA এর বাহিরের রাষ্ট্রগুলো থেকে ভিসা ইস্যু করবে না।

জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট এর যোগ্য পেশাগুলো কি কি তা খুজেই এ পদে ভিসার আবেদন করতে হবে। Department of Enterprise জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট এর অযোগ্য বা ইনিলিজিবল পেশার একটি তালিকা প্রদান করে। তালিকাটি এই লিংকে গেলে দেখতে পাবেন জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট ইনিলিজিবল জবের লিস্ট

এই লিংকে সম্পূর্ণ তালিকা দেয়া আছে। সুতরাং এর বাহিরের পেশাগুলোতেই কেবলমাত্র জেনারেল ওয়ার্ক পারমিটে ভিসার জন্য যোগ্য।

তবে তালিকাটি ভালোভাবে বুঝতে হবে। কিছু কিছু পেশা আপনাদেরকে হয়ত দ্বিধান্বিত করতে পারে। যেমন রেস্টুরেন্টের শেফ জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট ক্যাটাগরিতে পড়েনা। কিন্তু আবার ৫ বছরের হেড শেফ এর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে আবার আবেদন করার জন্য ইলিজিবল হবে। এভাবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে যা আবেদনকারীকে খুঁজে বের করতে হবে যে, জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট পেতে সে যোগ্য কিনা।

জেনারেল ওয়ার্ক পারমিটের জন্য এমপ্লয়ার এবং এমপ্লয়ী উভয়ের কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।
এমপ্লয়ারকে অবশ্যই জেনুইন এবং লিগ্যাল হতে হবে। কোম্পানি ও রেভিনিউ রেজিস্টার্ড হতে হবে। কোম্পানিকে অবশ্যই ৫০:৫০ নিয়ম মানতে হবে। যেমন, কোম্পানিতে অবশ্যই ৫০% ইউরোপীয় কর্মচারী থাকতে হবে। তা না হলে নন-ইউরোপীয়দের জন্য ওয়ার্ক পারমিট নিতে পারবে না। কোম্পানিকে অবশ্যই স্থানীয় পত্রিকায় কর্মী চেয়ে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। Labour Market Needs Test ও যাচাই করে নিতে হবে।

এমপ্লয়ীর বাৎসরিক বেতন নূন্যতম ৩০,০০০ ইউরো হতে হবে। তবে পেশাভেদে কিছুক্ষেত্রে নূন্যতম বেতন ২৭,০০০ ও ২৭,৫০০ ও হতে পারে। তবে ২০২৪ বাজেটে মিনিমাম সেলারি রেট বর্ধনের ফলে নূন্যতম বেতনের পরিবর্তন ভবিষ্যতে হয়ত হতে পারে। এবং এমপ্লয়ীর পেশা বিষয়ক কোয়ালিফিকেশন থাকতে হবে।

জেনারেল ওয়ার্ক পারমিটের বিস্তারিত নিয়ম ও আবেদনের প্রক্রিয়া জানতে এখানে ক্লিক করুন জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট নির্দেশিকা

#৩) ইন্ট্রা-কোম্পানি ট্রান্সফার পারমিট

ইন্ট্রা-কোম্পানি ট্রান্সফার হচ্ছে একই কোম্পানির এক অফিস বা ব্রাঞ্চ থেকে অন্য অফিস বা ব্রাঞ্চে কর্মী স্থানান্তর। এই স্থানান্তর দেশের মধ্যে ও দেশের বাহিরেও হতে পারে। সাধারণত মাল্টিন্যাশনাল বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে এমন এমপ্লয়মেন্ট ট্রান্সফার হয়ে থাকে। ধরুন বাংলাদেশের কোকাকোলা কোম্পানিতে কেউ চাকুরী করে এমন কেউ আয়ারল্যান্ডের কোকাকোলা কোম্পানিতে ট্রান্সফার হবে, এমন ট্রান্সফারই হচ্ছে ইন্ট্রা-কোম্পানি ট্রান্সফার।

ইন্ট্রা-কোম্পানি ট্রান্সফার জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট এর ইনিলিজিবল লিস্ট অনুসরণ করে না, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কর্মচারিটি যে কোম্পানিতে কাজ করে সে কোম্পানির উপর নির্ভর করে তাকে দেশের বাহিরের ব্রাঞ্চে ট্রান্সফার করবে কিনা। যদি উক্ত কোম্পানি উক্ত কর্মচারীকে ট্রান্সফারের অনুমোদন দেয়, এর পর Department of Enterprise, Trade and Employment সে আবেদন যাচাই বাছাই করে সব ক্রাইটেরিয়া পূরণ করলে ভিসার জন্য পারমিট প্রদান করবে।

ইন্ট্রা-কোম্পানি ট্রান্সফার এর বিস্তারিত নিয়ম, ক্রাইটেরিয়া ও আবেদন প্রক্রিয়া জানতে এখানে ক্লিক করুন ইন্ট্রা-কোম্পানি ট্রান্সফার পারমিট নির্দেশিকা

#৪) ইন্টার্নশিপ এমপ্লয়মেন্ট পারমিট

এটা খুবই অপ্রতুল একটি স্কিম। এই স্কিমে পারমিট পাওয়ার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।

ইন্টার্নশিপ এমপ্লয়মেন্ট পারমিট কি তা সহজে বোঝার জন্য একটা উদাহরণ দিয়ে শুরু করি। যেমন, আয়ারল্যান্ডে কোন ছাত্রছাত্রী যদি কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ে থার্ড লেভেল পড়াশুনা করে তাহলে ছাত্রাবস্থায় বিভিন্ন কোম্পানিতে তাদের ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ রয়েছে। আয়ারল্যান্ডের ছাত্রছাত্রীরা যেহেতু আইরিশ কিংবা ইউরোপীয় নাগরিক তাই তাদের ভিসার প্রয়োজন পড়েনা।

ঠিক তদ্রূপ, ইউরোপের বাহিরে থেকেও ছাত্রছাত্রীদের আয়ারল্যান্ডে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আইরিশ বা ইউরোপীয় ছাত্রছাত্রী থেকে তাদের তপাৎ হচ্ছে, তাদের ভিসা লাগবে। সে ভিসা বা পারমিটই হচ্ছে ইন্টার্নশিপ এমপ্লয়মেন্ট পারমিট।

এই পারমিট পেতে হলে ক্রিটিক্যাল স্কিলের ইলিজিবল তালিকা অনুসরণ করতে হবে। ক্রিটিক্যাল স্কিলের পেশার অন্তর্ভুক্ত এমন বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাই মূলত এই স্কিমে আবেদন করতে যোগ্যতা রাখে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এই ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম বাধা হচ্ছে আইরিশ কোম্পানি থেকে ইন্টার্নশিপ এর অফার পাওয়া। খুব কম সংখ্যক কোম্পানিই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এই অফার দিয়ে থাকে। কারণ তারা লোকাল শিক্ষার্থী দ্বারাই ইন্টার্নশিপ করিয়ে নেয়। তবে কিছু কোম্পানির আন্তর্জাতিক কোটা বা কোম্পানি পলিছি থাকে, যা বিশ্বের নিদৃস্ট কোন দেশ থেকে নিদৃস্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদেরকে ইন্টার্নশিপ হিসেবে নিয়োগ দেয়।

তারপরেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরকে আমরা অনুপ্রাণিত করি এই স্কিমটি দেখা এবং চেষ্টা করে দেখা।

ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের জন্য সর্বোচ্চ ১২ মাসের ভিসা দেয়া হয়, যা অনবায়নযোগ্য। ভিসার মেয়াদ শেষ হলে শিক্ষার্থীদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে দেশে ফেরত যেতে হবে।

ইন্টার্নশিপ এমপ্লয়মেন্ট পারমিটে ইন্টার্নশিপ করতে ইচ্ছুক যে কেউ এই লিংকে ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন ইন্টার্নশিপ এমপ্লয়মেন্ট পারমিট নির্দেশিকা

#৫) কন্ট্রাক্ট ফর সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট পারমিট

এই পারমিট সম্পর্কে জানতে হলে আমাদেরকে আগে জানতে হবে ”কন্ট্রাক্ট ফর সার্ভিস’’ এবং ”কন্ট্রাক্ট অফ সার্ভিস’’ এর মধ্যে পার্থক্য। এই দুই বাক্য একই মনে হলেও সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে।

‘বিজনেস ল’ অনুযায়ী ”কন্ট্রাক্ট অফ সার্ভিস’’ হচ্ছে মালিক এবং কর্মচারীর মধ্যে এমপ্লয়মেন্ট কন্ট্রাক্ট। আর ”কন্ট্রাক্ট ফর সার্ভিস’’ হচ্ছে কোন একটা সার্ভিস এর জন্য থার্ড পার্টির সাথে কন্ট্রাক্ট। সহজ ভাষায় যদি বলি ”কন্ট্রাক্ট অফ সার্ভিস’’ হচ্ছে আমি যদি কোন কোম্পানিতে জব নেই তাহলে মালিকের সাথে আমার যে চুক্তি। আর ”কন্ট্রাক্ট ফর সার্ভিস’’ হচ্ছে আমি সেলফ এমপ্লয়েড এবং আমার নিজস্ব কোম্পানি আছে এবং আমি অন্য কোম্পানিতে সার্ভিস বা কাজ করে দেয়ার জন্য চুক্তি করেছি।

”কন্ট্রাক্ট ফর সার্ভিস’’ এমপ্লয়মেন্ট পারমিট হচ্ছে আমি বা আমার কোম্পানি আইরিশ কোন কোম্পানির কাজ করে দিতে চুক্তিবদ্ধ। সে কারণে আমার আয়ারল্যান্ড ভ্রমণ করতে হবে এবং ভ্রমণ করতে ভিসার প্রয়োজন, সুতরাং সে ভিসাই হচ্ছে কন্ট্রাক্ট ফর সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট পারমিট।

কন্ট্রাক্ট ফর সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট পারমিট ব্যাতিরেকে এই আর্টিকেল এর বাকি সব স্কিমই হচ্ছে ”কন্ট্রাক্ট অফ সার্ভিস’’। কারণ বাকি স্কিম গুলাতে কোন না কোন কোম্পানির সাথে চুক্তিতে যেতে হয়।

কন্ট্রাক্ট ফর সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট পারমিট প্রথমে ২৪ মাসের প্রদান করা হয়। পরে ৫ বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যায়।

তবে যে কোন কোম্পানি হলেই কন্ট্রাক্ট ফর সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট পারমিট পাওয়া যাবে না। জেনারেল ওয়ার্ক পারমিট ইনিলিজিবল জবের লিস্ট এক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, ইনিলিজিবল লিস্টের সাথে সম্পর্কিত কাজের জন্য এই স্কিমেও পারমিট পাওয়া যাবেনা।

এই স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন কন্ট্রাক্ট ফর সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট পারমিট নির্দেশিকা

#৬) স্পোর্ট এন্ড কালচারাল এমপ্লয়মেন্ট পারমিট

খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মসংস্থানভিত্তিক পারমিট হচ্ছে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কার্যকলাপের বিকাশ, পরিচালনার জন্য প্রাসঙ্গিক যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে বিদেশী নাগরিকদের কর্মসংস্থানের জন্য এই স্কিম।

উদাহরণস্বরূপ মেসি বা রোনালদো স্পেনের নাগরিক না, কিন্তু তাদের ক্লাব বার্সেলোনা কিংবা রিয়েল মাদ্রিদ তাদেরকে তাদের দেশের ভিসা দিয়ে এমপ্লয় করে নেয়। তদ্রূপ বাংলাদেশি কেউ যদি খেলাধুলায় ভালো দক্ষতা থাকে কিংবা সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকর্মে দক্ষ, তেমন কাউকে এমপ্লয় করতে যদি আইরিশ সরকার কিংবা ক্রিয়া সংঘটনের আগ্রহ জন্মে তাহলে তারা উক্ত ব্যাকটিকে এই স্কিমে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করবে।

এ ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত এমপ্লয়মেন্ট ডিপার্টমেন্ট অফ এন্টারপ্রাইজ আবেদনকারী ব্যাক্তি কিংবা তার গভর্নিং বডির সাথে যোগাযোগ করে এবং অন্যান্য বিষয় যাচাই বাছাই করে নেয় যে, আবেদনকারীর প্রাসঙ্গিক যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা কতটুকু।

ডিপার্টমেন্ট অফ এন্টারপ্রাইজ এমপ্লয়ার বা কোম্পানিকেও যাচাই বাছাই করে এই স্কিমে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর আগে। জেনারেল স্কিমের মতই কোম্পানির ট্রেড রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে এবং ৫০:৫০ নিয়ম বজায় থাকতে হবে।

স্পোর্ট এন্ড কালচারাল এমপ্লয়মেন্ট পারমিট আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন স্পোর্ট এন্ড কালচারাল এমপ্লয়মেন্ট পারমিট নির্দেশিকা

#৭) এক্সচেঞ্জ এগ্রিমেন্ট এমপ্লয়মেন্ট পারমিট

এটা একটু ব্যতিক্রমি ওয়ার্ক পারমিট। এই পারমিট নিদৃস্ট ব্যাক্তি ছাড়া সবার জন্য প্রযোজ্য নয় এবং সবাই ইলিজিবলও হবে না। আয়ারল্যান্ডে কিছু চ্যারেটি টাইপ নন-প্রফিট অর্গানাইজেশন আছে এবং যাদের শাখা বিশ্বব্যাপী রয়েছে। ঐসব অর্গানাইজেশনের সাথে চুক্তি আছে যে, ওই অর্গানাইজেশনগুলোতে কর্মরত, অধ্যয়নরত অথবা রিসার্স কাজে জড়িতরা যদি আয়ারল্যান্ডে অধ্যয়ন কিংবা রিসার্সের কাজে ও অর্গানাইজেশনগুলোর কাজ সম্বন্ধীয় কারণে ভ্রমণ করে তাহলে এক্সচেঞ্জ এগ্রিমেন্ট এমপ্লয়মেন্ট পারমিট ইস্যু করা হবে।

যে অর্গানাইজেশনগুলোর সাথে বর্তমান চুক্তি বা এগ্রিমেন্ট আছে তার তালিকা এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ডে প্রদান করা হয়েছে। তবে সময় সময় এই তালিকার হালনাগাদ হতে পারে।

তালিকাটি নিম্নরূপঃ
– AIESEC
– The International Association for the Exchange of Students for Technical Experience (IAESTE)
– The Fulbright Programme
– Exchange between St Joseph’s University, Philadelphia and University College Cork in conjunction with Bord Bia
– Vulcanus In Europe Programme (Ireland)
এক্সচেঞ্জ এগ্রিমেন্ট এমপ্লয়মেন্ট পারমিটের আওতাধীন অর্গানাইজেশনগুলোর তালিকা ও আবেদনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন এক্সচেঞ্জ এগ্রিমেন্ট এমপ্লয়মেন্ট পারমিট নির্দেশিকা

#৮) ডিপেন্ডেন্ট/পার্টনার/স্পাউস এমপ্লয়মেন্ট পারমিট

ডিপেন্ডেন্ট/পার্টনার/স্পাউস এমপ্লয়মেন্ট পারমিট হচ্ছে স্বামী বা স্ত্রীর জন্য ওয়ার্ক পারমিট। বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করা যাক।

প্রথমত হচ্ছে যার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হবে তাকে অবশ্যই প্রথমে ক্রিটিকেল স্কিলে চাকুরী নিয়ে অথবা রিসার্সার হিসেবে আয়ারল্যান্ডের অধিবাসী হতে হবে। তাহলেই সে তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য ডিপেন্ডেন্ট/পার্টনার/স্পাউস এমপ্লয়মেন্ট পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবে।

ধরুন আপনি ক্রিটিকেল স্কিল ওয়ার্ক পারমিটে আয়ারল্যান্ড আছেন এবং আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীকে আপনার স্পাউস হিসেবে আয়ারল্যান্ডে নিয়ে এসেছেন। আপনার স্পাউস হিসেবে তিনি STAMP-3 ভিসায় এসেছেন। কিন্তু STAMP-3 ভিসা আয়ারল্যান্ডে আপনার স্পাউসকে সরাসরি কাজ করার অনুমতি প্রদান করেনা। কিন্তু আপনি চান আপনার স্বামী বা স্ত্রী জব করুক। সেক্ষেত্রে আপনাকে ডিপেন্ডেন্ট/পার্টনার/স্পাউস এমপ্লয়মেন্ট পারমিটের নিয়মানুযায়ী STAMP-1 এর জন্য আবেদন করতে হবে।

STAMP-1 এর জন্য আবেদন করতে হলে স্পাউসকে আগে কোন একটি কোম্পানি থেকে জব অফার নিতে হবে। আবেদন করার পর যদি ওয়ার্ক পারমিট গ্রান্ট হয় তাহলে, ইমিগ্রেশন সার্ভিস স্পাউসের STAMP-3 ভিসা STAMP-1 এ ট্রান্সফার করে দিবে। এরপর ওয়ার্ক পারমিটের একটি সার্টিফাইড কপি আবেদনকারীকে এবং আরেকটি কপি কোম্পানিকে প্রেরণ করবে ইমিগ্রেশন অফিস।

ডিপেন্ডেন্ট/পার্টনার/স্পাউস এমপ্লয়মেন্ট পারমিটের জন্য আবেদন করতে স্বামী বা স্ত্রীকে অবশ্যই আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত থাকতে হবে এবং স্পাউসের সাথে থাকতে হবে। এই স্কিমে কেবলমাত্র আয়ারল্যান্ডে আসার পরেই আবেদন করতে পারবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অবশ্যই ফুল টাইম এডুকেশনে থাকা যাবেনা এবং অন্য কোন ওয়ার্ক ভিসা ক্যাটাগরিতে থাকা যাবেনা।

এ নিয়ম শুধুমাত্র ক্রিটিকাল স্কিল এবং রিসার্সারদের জন্য প্রযোজ্য। কোন আইরিশ এবং ইউরোপীয় সিটিজেনদের স্পাউসদের জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। এক্ষেত্রেও কোম্পানি থেকে জব অফার থাকতে হবে।

বিস্তারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া জানতে এখানে ক্লিক করুন ডিপেন্ডেন্ট/পার্টনার/স্পাউস এমপ্লয়মেন্ট পারমিট নির্দেশিকা

#৯) (Reactivation) রিঅ্যাক্টিভ্যাশন এমপ্লয়মেন্ট পারমিট

এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যারা যেকোন এমপ্লয়মেন্ট পারমিটে আছেন অথবা ভবিষ্যতে আসবেন। এ বিষয়টা জানা অতীব জরুরি।

এমপ্লয়মেন্ট পারমিট ভিসায় আয়ারল্যান্ড এসে অনেকে কোম্পানি দ্বারা নাজেহাল ও আনফেয়ার ডিসমিসাল এর শিকার হয়ে ভিসা বাতিল হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ভিসা পুনর্বহাল করতে এই ভিসা স্কিম সম্পর্কে জরুরি।

রিঅ্যাক্টিভ্যাশন এমপ্লয়মেন্ট পারমিট হচ্ছে, পূর্বে যে কোন ধরনের এমপ্লয়মেন্ট ভিসা ছিল কিন্তু পরে কোন কারণে বাতিল হয়ে যায়, কিংবা এমপ্লয়ার পরিবর্তন করতে, কিংবা স্পন্সরড কোম্পানি থেকে রিডানডেন্ট হয়ে গেছে, কিংবা ডিপেন্ডেন্ট/পার্টনার/স্পাউস এমপ্লয়মেন্ট পারমিট হোল্ডার নতুন স্কিমে নতুন এমপ্লয়মেন্ট পারমিটে ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিবর্তন করা যায়।

তবে রিঅ্যাক্টিভ্যাশন এমপ্লয়মেন্ট পারমিট পেতে উভয় এমপ্লয়ার এবং এমপ্লয়ী উভয়কেই কিছু শর্ত ও ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে হবে। যা পূরণ করলেই কেবল এই স্কিমে ওয়ার্ক পারমিট পেতে পারে।

ডিপেন্ডেন্ট/পার্টনার/স্পাউস এমপ্লয়মেন্ট পারমিট এর মত একমাত্র আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করতে হবে এবং এমপ্লয়মেন্ট পারমিট ভিসায় আয়ারল্যান্ডে ঢুকতে হবে এই স্কিমে ইলিজিবল হতে হলে। রিঅ্যাক্টিভ্যাশন এমপ্লয়মেন্ট পারমিট পেতে হলে আবেদনকারীর টেম্পোরারি STAMP-1 থাকতে হবে এবং জেনুইন এমপ্লয়মেন্ট অফার থাকতে হবে।

রিঅ্যাক্টিভ্যাশন এমপ্লয়মেন্ট পারমিট এর আরও বিস্তারিত শর্ত, নিয়ম, ফি ও আবেদনের প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন রিঅ্যাক্টিভ্যাশন এমপ্লয়মেন্ট পারমিট নির্দেশিকা

নোটঃ সবগুলো ধরনের ওয়ার্ক পারমিট বেতনভুক্ত হতে হবে এবং বেতন আবেদনের সময়ের ঘণ্টায় মিনিমায় ওয়েজ এবং তা বছরে হিসেব করে মিনিমাম বেতনে হতে হবে। প্রত্যেক কোম্পানিকে অবশ্যই Labour Market Needs Test এর প্রমাণ দেখাতে হবে যে তারা যে কর্মী চায় তা EEA ন্যাশনাল কর্মী দিয়ে পূরণ হচ্ছে না। এরপর একটি নিদৃস্ট সময় পর্যন্ত লোকালি জব বিজ্ঞাপন দিতে হবে। প্রত্যেক কোম্পানিকে অবশ্যই কোম্পানি ও রেভিনিউ রেজিস্টার্ড হতে হবে এবং বাৎসরিক রিটার্ন ও ট্যাক্স রিটার্ন ক্লিয়ার থাকতে হবে।

প্রত্যেক ক্যাটাগরির জন্য আলাদা কিছু নিয়ম আছে, তা উপরোক্ত লিংকে গিয়ে দেখে নিতে পারেন।

মাথায় রাখুনঃ

ক) উপরোক্ত নয়টি ওয়ার্ক পারমিট স্কিমের প্রথম ৭ টি হচ্ছে আয়ারল্যান্ডের বাহিরে থেকে আয়ারল্যান্ডে আসার জন্য এবং শেষের দুটি হচ্ছে আয়ারল্যান্ডে বসবাসরতদের জন্য যারা। ক্রিটিক্যাল স্কিল ও জেনারেল ওয়ার্ক পারমিটে কোম্পানি স্পন্সর অনুযায়ী স্ট্যাম্প ওয়ার্ক পারমিটে পরিবর্তন করা যায়। যেমন স্টুডেন্ট ভিসা থেকে ওয়ার্ক পারমিট।

খ) উপরোক্ত ৯ টি স্কিমের বাহিরে কোন স্কিমে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয় না এবং এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ডের ক্রিটিক্যাল স্কিমের তালিকার বাহিরে এবং জেনারেল স্কিমের ‘’ইনিলিজিবল’’ তালিকার মধ্যে পড়ে এমন কেউ ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হবে না।

গ) আবেদনের আগে সবগুলো স্কিমের শর্ত, নিয়মকানুন ভালো করে দেখে আবেদন করতে হবে। তা না হলে ভিসা ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করবেনা এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ড।

ঘ) যেহেতু ভিসা ক্যাটাগরি হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিট, সেহেতু উপরোক্ত ৯ টি স্কিমেই পারমিট পেতে হলে কোন কোম্পানি থেকে জব অফার লাগবেই। জব অফার ব্যাতিরেকে কোন স্কিমেই আবেদন করার জো নেই। আর জব অফার সম্পূর্ণ নির্ভর করে কোম্পানির উপর।

ঙ) আবার সব কোম্পানি চাইলেও জব অফার যে কাউকে করতে পারবেনা, যদিনা কোম্পানি এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ডের শর্ত ও নিয়মের বাহিরে পড়ে ও প্রদত্ত অফারের জবটি এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ডের তালিকার বাহিরে থেকে হয়।

চ) কোম্পানি জব অফার করলেও এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ড তা রিফিউজ করে দিতে পারে, যদিনা আবেদনকারীর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের না হয়।

ছ) এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করলেও এম্বেসি কতৃক ভিসা রিফিউজ হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। যার প্রমাণ প্রতিনিয়ত পাওয়া যাচ্ছে।

সতর্কতা অবলম্বন

ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে অনেকেই অসাধু পন্থা অবলম্বন করে থাকে। ভিসা পাইয়ে দেয়ার নাম করে অনেক অসাধু ব্যাক্তি বাংলাদেশের অনেকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেকে ভিসা হওয়ার আগেই টাকা হাতিয়ে নিয়ে নেন এবং পরে ভিসা না হলে সে টাকা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আর ফেরত দেয় না।

ভিসা ফি এবং আনুসাঙ্গিক খরচের বর্ণনা এই রিপোর্টের লিংকগুলোতে দেয়া আছে। এর বাহিরে হয়ত অল্প কিছু অন্যান্য খরচ হতে পারে, তবে তাও হিসেবযোগ্য। একান্তই দালাল ব্যাতিরিকে অথবা ভিসা ইস্যুই যাদের ব্যবসা, তারা ছাড়া ওয়ার্ক ভিসা পেতে মোটা অংকের টাকা কখনোই লাগেনা, যেমনটি মানুষ দিয়ে প্রতারিত হচ্ছে।

ওয়ার্ক পারমিট থেকে শুরু করে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত খরচ খুব বেশি হবার কথা নয়। এ ভিসায় কেউ আসতে পারবেনা কয়েকটি কারণে হয় কোম্পানি জব অফার করবেনা অথবা এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করবেনা অতবা এম্বেসি ভিসা গ্রান্ট করবে না। এর বাহিরে সবারই সমান খরচ।

সুতরাং আপনি ও আপনার পরিচিত কেউ কারো সাথে ভিসা বিষয়ক লেনদেনে যাবার আগে ভালো করে যাচাই বাছাই করে নিন। মনে রাখবেন কোন দালাল যদি ভিসার নিশ্চয়তা দিয়ে টাকা নেয় তাহলে তা হবে সম্পূর্ণ বানোয়াট। কারণ ভিসা পাওয়া কোন ব্যাক্তির হাতে থাকে না। যদি তাই হত তাহলে ১৭ কোঠি মানুষের দেশে ভিসা পাওয়ার পরিমাণ মাত্র ০.০০৪% হত না। কেউ হয়ত ওয়ার্ক পারমিট পেতে সহায়তা করতে পারে যদি কারো নিজস্ব কোম্পানি ও পরিচিত কোম্পানি থাকে, কিন্তু ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা পাওয়া সম্পূর্ণ নির্ভর করে এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ড ও এম্বেসির উপর।

পরিশিষ্ট

আয়ারল্যান্ডে ওয়ার্ক ভিসা ছিল, আছে এবং থাকবে। উপরের ৯ ক্যাটাগরিতেই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকে আসেও। কিন্তু এত ধরনের ভিসা ক্যাটাগরি থাকলেও বাংলাদেশ থেকে ওয়ার্ক পারমিটে আসার পরিমাণ নিতান্তই নগণ্য। একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভের সময় ছাড়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় আয়ারল্যান্ডে আসার পরিমাণ নিতান্তই নগণ্য।

ভিসা পাওয়া তো প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ। কিন্তু কোন কোম্পানি থেকে জব অফার পাওয়াটাই হচ্ছে দূরুহ ব্যাপার। ক্রিটিক্যাল স্কিলের আওয়তায় পড়ে এমন অনেক যোগ্য, কোয়ালিফাইড এবং অভিজ্ঞদের দেখছি চাকুরীতে আবেদনের পর আবেদন করেও চাকুরীর অফার পাচ্ছে না। অফার তো দূরের কথা ইন্টারভিউ পর্যন্ত নিচ্ছে না।

এরপর কোনরকমে কেউ যদি একটি অফার পেয়েও যায়, তাকে আবার মুখোমুখি হতে হয় এম্বেসির সামনে। ভিসা আবেদনের বেশিরভাগই মুখ দেখে রিফিউজালের। বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা রিফিউজ নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার।

কিন্তু একই অথবা এর থেকে নিম্ন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্নরা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পানির স্রোতের মত আসতেছে। এর অভিজ্ঞতা আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত কারুরই অজানা থাকার মত নয়।

হ্যাঁ বাংলাদেশ থেকে কিছু আসতেছে, কিন্তু তার পরিমাণ এতই নগণ্য যে তাদের খুঁজে বের করতে চিরুনি চালানো লাগে।

Source: European Migration Network EMN

উপরের চার্টে যদি দেখেন তাহলে দেখবেন ভারত থেকে ওয়ার্ক ভিসায় আসার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

আয়ারল্যান্ডে এত সুযোগ থাকতেও বাংলাদেশিরা কেন বঞ্চিত তা খুঁজে বের করা দরকার। এটা কি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দায়ী, যে শিক্ষা বিদেশী কোম্পানির কাছে আস্থা অর্জনে ব্যার্থ? নাকি বাংলাদেশিদের ব্যার্থতা, যে কারণে আমাদেরকে ভিসা দিতে এমব্যাসি এতটাই অপারগ? নাকি কূটনৈতিক ব্যার্থতা, আইরিশ সরকারের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করতে ব্যার্থ প্রশাসন?

খুঁজে বের করা দরকার, মূলত সমস্যাটা কোথায়?

 

ওমর এফ নিউটন
বার্তা সম্পাদক আইরিশ বাংলা টাইমস
ফ্রি হেল্পলাইনঃ newton.acca@gmail.com

Facebook Comments Box