আজ ১ম মে, মহান শ্রমিক দিবস

0
450
মহান মে ডে

১৮৮৬ সালে ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকেরা দৈনিক ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ওই দিন অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে জীবন দিতে হয়। উত্তাল সেই আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে দিতে বাধ্য হয়। এরই পথ ধরে বিশ্বব্যাপী দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের সময় চালু করা হয়। এরপর ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমাবেশে ১ মে’ কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর থেকে বিশ্বব্যাপী এ দিনটি পালিত হচ্ছে।

ঠিকা শ্রমিক – খেপের অপেক্ষায়

শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরির দাবি এখনো উপেক্ষিত, এখনো তাঁদের বিরাট অংশ মৌলিক মানবাধিকার থেকেও বঞ্চিত। মে দিবস বিশ্বের শ্রমিকদের সংহতি যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি তাদের ওপর শোষণের বিরুদ্ধেও প্রেরণা যোগাচ্ছে। মে দিবসের পথ ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের অধিকার, বিশেষ করে মজুরি, কাজের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা—এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। কিন্তু গত দুই দশকে বিশ্বায়নের ফলে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে বৈষম্য ও বঞ্চনা।

নারী শ্রমিক

বিশ্বের অনেক দেশে শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও জীবনযাত্রার মানের উপর নির্ভর করে বেতন নির্ধারণ করা হলেও বাংলাদেশের সিংহভাগ শ্রমিকই শ্রমের সঠিক মূল্য পায়না। বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে অবহেলার স্বীকার। সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করে সবচেয়ে কম মজুরি এবং সন্মান তাদের জুটে থাকে।

শিশু শ্রমিক

বাংলাদেশে এখনো নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া শ্রমিকরা অবহেলিত এবং সমাজে দেখা হয় ছোট করে। বিশ্বের অনেক দেশে, বিশেষ করে উন্নত বিশ্বে সকল পেশাকে সমচোখে দেখলেও, বাংলাদেশসহ অনেক দেশে কিছু পেশাকে দেখা হয় হীন চোখে।

প্রতি বছরই ঘুরে ফিরে আসে মে দিবস। মনে করিয়ে দেয় শ্রমিক অধিকারের কথা। কিন্তু পুঁজিবাদের এই বিশ্বে মে দিবস কতটাই বা গুরত্ব বহন করে?

মে দিবসের এই দিনে সকল শ্রমজীবীদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

 

Facebook Comments Box